বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর সাথে ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক প্রণীত এমপিও নীতিমালা-২০২৬ এর সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসনের দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আজ ২২ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য নিরসন প্রত্যাশী মাধ্যমিক শিক্ষক উইং এর আয়োজনে এবং বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের সহযোগিতায় এই দাবি জানান।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মো. মাইন উদ্দীন সভাপতি- বাবেশিকফো, মো. জহিরুল ইসলাম, নির্বাহী মহাসচিব, বাবেশিকফো, মো: আতিকুর রহমান তালুকদার সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবেশিকফো, মোঃ শামীম সহ-সভাপতি বাবেশিকফো, মো. মিজানুর রহমান সাংগঠনিক সম্পাদক বাবেশিকফো, মো: রবিউল ইসলাম ও মোঃ তোফায়েল সরকার যুগ্ম-মহাসচিব, বাবেশিকফো, "উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য নিরসন প্রত্যাশী মাধ্যমিক শিক্ষক উইং" এর মোঃ সাইদুজ্জামান, মোঃ মাহমুদুল হাসান মোহাব্বত, মোঃ রাশেদ, মোঃ আল মামুন, মোঃ জসিম উদ্দিন, রিনা খাতুন, মোঃ মাসুদ প্রমুখ।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষক নেতারা জানান, অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো, একই দেশের একই এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হয়েও স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের মাধ্যমিক পর্যায়ে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য বিদ্যমান রয়েছে। যা অনুচ্ছেদে বৈষম্য উল্লেখ রয়েছে। মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালা-২০২৬ এ ১১.৫ অনুচ্ছেদে সহকারী শিক্ষকদের ১ম এমপিওভুক্তির সময়কালকে ভিত্তি করে ১ম উচ্চতর গ্রেড দেয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ও ১১.৭ এ উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে ভিন্ন শর্ত নির্ধারিত হওয়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকরা মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষকদের মতো ১ম এমপিওভুক্তির সময়কালকে ভিত্তি করে একই নীতিগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আমরা সারা বাংলাদেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণে সহকারী শিক্ষকবৃন্দ দীর্ঘদিন ধরে এই ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছি। এ লক্ষ্যে আমরা গত ১২ আগস্ট ২০২৬ খ্রি., ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬খ্রি. ও ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. পর্যন্ত (শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিনিয়র সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও সর্বশেষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছি।
স্মারকলিপির মূল দাবি ছিল—
মাদ্রাসার মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষকদের ন্যায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকগণ যাতে এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে সময়কাল গণনা করে ১ম উচ্চতর গ্রেড প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করে বৈষম্য দূর করা হয়।
আমরা বিশ্বাস করি, একই দেশের একই সরকারের অধীনে পরিচালিত এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের বৈষম্য কাম্য নয়। একজন শিক্ষক দীর্ঘদিন একই শিক্ষা ব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন করার পরও শুধুমাত্র স্কুল ও মাদ্রাসার ভিন্ন নীতিমালার কারণে ন্যায্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে তা শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য ও হতাশা সৃষ্টি করছে।
আমাদের প্রধান দাবিসমূহ
১। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিও নীতিমালার ১১.৭ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালার ১১.৫ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সমতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
২। এমপিওভুক্তির সময়কালকে ভিত্তি করে মাদ্রাসা সহকারী শিক্ষকদের ন্যায় উচ্চতর গ্রেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও এমপিওভুক্তির সময়কালকে ভিত্তি করে ১ম উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩। B.Ed ডিগ্রির কারণে কোন শিক্ষক যেনো আর্থিক বৈষম্যের সৃস্টি না হয়। সেদিক বিবেচনায় নিয়ে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে অভিজ্ঞতা গণনা করে ১ম উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৪। সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ন্যায্য, অভিন্ন নীতিমালা নিশ্চিত করতে হবে।
৫। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ৯ম পে-স্কেল-২০২৬ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার জন্য সংম্লিষ্ট কর্তৃকপক্ষকে অনুরোধ জানানো হলো।
৬। পে-স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পূণাঙ্গ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধিসহ আগামী ঈদুল ফিতরে পূণাঙ্গ উৎসব ভাতা দেয়া হউক।
আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানাচ্ছি যে, আজকের সংবাদ সম্মেলনের তারিখ থেকে আগামী ২ (দুই) মাসের মধ্যে আমাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি ।
অন্যথায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগামী ২ (দুই) মাসের মধ্যে আমাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে, আমরা বাধ্য হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করব এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পরবর্তী কর্মসূচি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব ইনশাআল্লাহ।
আমাদের এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়। এটি দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার, সমতা প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যমুক্ত উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির অধিকার আদায়ের আন্দোলন।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর