বিশ্ববাজারে টানা দরপতনে দুই মাসে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমেছে ৩৪ হাজার টাকারও বেশি। তবে বাংলাদেশের বাজারে একই সময়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমেছে ২৩ হাজার ৫৬১ টাকা। ফলে বিশ্ববাজারের তুলনায় দেশের বাজারে ভরিতে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার টাকা কম। অন্যদিকে, রুপার দামের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
বিশ্ববাজারে গত ২৫ আগস্ট প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৪ হাজার ৬৫৮ ডলার। সেখান থেকে কমতে কমতে ২৪ অক্টোবর দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৯৪ ডলারে। অর্থাৎ, দুই মাসের ব্যবধানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে ৬৬৪ ডলার।
ডলারের বিনিময়মূল্য ১২৫ টাকা ধরে হিসাব করলে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৮৩ হাজার টাকা। বাংলাদেশি ওজনের হিসাবে প্রতি ভরিতে এই পতনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৪ হাজার ১৪৯ টাকা।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের এই দরপতনের পুরো প্রভাব পড়েনি দেশের বাজারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম কমেছে ২৩ হাজার ৫৬১ টাকা।
বাজুসের সর্বশেষ নির্ধারিত দর অনুযায়ী, বর্তমানে ভ্যাটসহ দেশের বাজারে বিভিন্ন মানের স্বর্ণের গহনার দাম নিম্নরূপ—
- ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।
- ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।
গত ২৫ আগস্ট ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। সে হিসাবে দুই মাসে দাম কমেছে ২৩ হাজার ৫৬১ টাকা।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ১৮ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ বার দাম কমানো হয়েছে এবং পাঁচবার বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ টানা তিন দফায় দাম কমানো হয়েছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম যে হারে কমেছে, বাংলাদেশের বাজারে সেই অনুপাতে দাম কমেনি। আন্তর্জাতিক বাজারের হিসাবে প্রতি ভরিতে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৩৪ হাজার ১৪৯ টাকা। বিপরীতে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমেছে ২৩ হাজার ৫৬১ টাকা। দুই বাজারের দামের পতনের ব্যবধান প্রায় ১০ হাজার ৫৮৮ টাকা।
এ ব্যবধানের বিষয়ে বাজুসের বক্তব্য, বাংলাদেশে স্বর্ণের খনি নেই। ফলে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে গহনার দাম সমন্বয়ের সময় স্থানীয় বুলিয়ান মার্কেট বা তেজাবি স্বর্ণের দামও বিবেচনায় নেওয়া হয়। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম যে হারে কমে, দেশের বাজারে সব সময় একই হারে কমানো সম্ভব হয় না।
স্বর্ণের তুলনায় রুপার দামের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বিশ্ববাজারে রুপার দাম কমার তুলনায় বাংলাদেশের বাজারে দাম বেশি কমানো হয়েছে।
প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে প্রতি ভরি রুপার দাম কমেছে প্রায় ৭৫৭ টাকা। অন্যদিকে, দেশের বাজারে ভালো মানের রুপার গহনার প্রতি ভরির দাম কমেছে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা।
বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরির দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা।
সব মিলিয়ে, গত দুই মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের বড় দরপতন হলেও বাংলাদেশের বাজারে তার প্রভাব তুলনামূলক কম পড়েছে। অন্যদিকে রুপার ক্ষেত্রে দেশের বাজারে দাম কমার পরিমাণ আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বেশি। স্থানীয় বাজারে মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি ও তেজাবি স্বর্ণের দামের প্রভাবের কারণে এই পার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর