গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ছয় বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রথমে তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর কথা জানালেও পরে পুলিশ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অনীহা প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী দাবি করেছেন, রুমিকে গ্রেপ্তারের কোনো সিদ্ধান্তই নেয়নি পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন জানান, তদন্তের স্বার্থে অভিযানের বিষয়ে এই মুহূর্তে বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে আমরা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে এখনই কথা বলতে চাই না। যখন অভিযানের কথা বলেছিলাম, তখন তদন্ত অন্য পর্যায়ে ছিল। এটা টেকনিক্যাল ইস্যু।’
অভিযানের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানের বিষয়টি আমরা প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। তদন্তের স্বার্থেই গোপনীয়তা বজায় রেখে কাজ করছি।’
এদিকে, শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি পুলিশ এবং এ ঘটনায় কোনো অভিযানও পরিচালনা করা হয়নি।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গাজীপুর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। টঙ্গীর মাদ্রাসার ঘটনায় শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তার করার কোনো সিদ্ধান্ত পুলিশ নেয়নি এবং পুলিশ কোনো অভিযানও পরিচালনা করেনি। সরকারের পক্ষ থেকেও গ্রেপ্তারের কোনো পরামর্শ পুলিশকে দেওয়া হয়নি। কতিপয় মিডিয়াতে শাহজালাল রুমির গ্রেপ্তারের অভিযানের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।’
তবে এর আগে একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এসব প্রতিবেদনে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেনের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়।
তখন তিনি জানিয়েছিলেন, শিশুটিকে হেনস্তার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মাদ্রাসায় প্রবেশ করে শিক্ষককে মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনায় শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
ওই সময় ওসি আরিফ হোসেন বলেন, ‘হেনস্তাকারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন দ্য আদার হ্যান্ড শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় অনুপ্রবেশ করে যেভাবে মারধর এবং ভাঙচুর করেছেন, সেটাও আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল সাহেব বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আমরা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ জনকে গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করছি।’
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ২১ অক্টোবর ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেম আহমদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।
পরে ২২ অক্টোবর ভুক্তভোগী শিশুটি আদালতে জবানবন্দি দেয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথাও জানিয়েছিল পুলিশ।
গ্রেপ্তার মোসলেম আহমদের বাড়ি কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার কর্তিবাড়ী মাস্টারপাড়া এলাকায়। তিনি টঙ্গীর আউচপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
অন্যদিকে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী অভিযোগ করেছেন, একদল লোক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করে। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করেছেন।
শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচারও চেয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চালানোর বিষয়ে আগের বক্তব্য, পরবর্তী সময়ে পুলিশের নীরবতা এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর দাবি—সবকিছু মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর