কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামে কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের জন্য তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক উদ্যোগের প্রতিবাদে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন ২৪টি কৃষক পরিবারের সদস্যরা। রোববার সকালে বুড়িচং প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা নিজেদের জমি রক্ষা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোহাম্মদ রবিউল হাসান। এ সময় নেহারা খাতুন, আলমগীর হোসেন ও ফরিদ মিয়াসহ হরিপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণ করা হলে পরিবারগুলো তাদের একমাত্র জীবিকার উৎস হারিয়ে ভূমিহীন ও অসহায় হয়ে পড়বে। কৃষকদের ভাষ্যমতে, অধিগ্রহণের জন্য নির্বাচিত জমিগুলো তিন ফসলি। এসব জমিতে বছরে একাধিকবার ফসল উৎপাদন করে এলাকার বহু দরিদ্র পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। জমির মালিকদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে অসচ্ছল; কেউ অটোচালক, কেউ রিকশাচালক। অনেকের বসতভিটাও এই জমির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। জমি হারালে তাঁদের কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে যাবে এবং পরিবারগুলোর খাদ্য, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, তাঁরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের বিরোধী নন। তবে তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে এলাকায় থাকা পতিত ও অনাবাদি জমি অথবা সরকারি খাসজমি ব্যবহারের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। এছাড়া বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য অনেকে বিনা মূল্যে জমি দান করতে আগ্রহী বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। এসব সম্ভাবনা যাচাই না করে কেন তিন ফসলি কৃষিজমি নির্বাচন করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের অভিযোগ, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অসহায় কৃষক পরিবারগুলোকে ভূমিহীন করার উদ্দেশ্যে এসব জমি নির্বাচন করেছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে কৃষক পরিবারগুলো প্রধানমন্ত্রী, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং বুড়িচং প্রেসক্লাব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং বিকল্প স্থান নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর