ঢাকার সাভারে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার বাদীকে আসামি করে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে পাল্টা মামলা করা হয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের করা এ মামলায় ধর্ষণ মামলার বাদীসহ ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাভার মডেল থানায় মামলাটি করেন ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আব্দুল বারীর (৫০) বড় ছেলে মো. উমায়ের। তিনি নিজেকে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার পরিচালনা সহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে করা মামলায় ৪৭ লাখ টাকা নগদ, ২৩ লাখ টাকা মূল্যের ১২ ভরি স্বর্ণালংকার এবং সাত লাখ টাকা মূল্যের আসবাবসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে লুট হওয়া মালামালের মূল্য ৭৭ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন মামলার বাদী।
মামলাটি ঘিরে আলোচনার অন্যতম কারণ, এতে ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর ধর্ষণ মামলার বাদী ও তার দাদার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলায় নাম উল্লেখ করা ছয়জনের মধ্যে ওই শিক্ষার্থীর দাদাও রয়েছেন, যিনি ধর্ষণ মামলার বাদী।
পুলিশের ওই সূত্রের দাবি, ঊর্ধ্বতন মহলের চাপে মো. উমায়েরের অভিযোগ অনুযায়ী মামলাটি নথিভুক্ত করতে হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ধর্ষণ মামলার বাদীকে লুটপাটের মামলায় আসামি না করতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে নিষেধ করা হয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষ তাকে আসামি করেছে। তদন্ত ছাড়া তাকে গ্রেপ্তার করা হবে না।
মামলার বাদী মো. উমায়ের তার বাবার বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, মাদ্রাসার জায়গাজমি দখল ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে তার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার রাতে মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ ৭৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া ভাঙচুরের কারণে এক কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন উমায়ের।
তার দাবি, গত কয়েক বছর ধরেই একটি পক্ষ মাদ্রাসার জায়গাজমি দখল ও লুটপাটের চেষ্টা করে আসছে।
অন্যদিকে, লুটপাট ও ভাঙচুরের মামলায় ধর্ষণ মামলার বাদীকে আসামি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর স্বজনেরা। ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আব্দুল বারীকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার না করায়ও অসন্তোষ জানিয়েছেন তারা।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ১৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হলে সন্ধ্যায় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাটি ঘেরাও করেন।
খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় এলাকাবাসীর তোপের মুখে পুলিশ সদস্যরা মাদ্রাসার ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রাত পৌনে নয়টার দিকে পুলিশ অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধার করে থানার উদ্দেশে রওনা হয়।
এরপর এলাকাবাসী দ্বিতীয় দফায় মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালান এবং ভেতরে থাকা মালামাল লুট করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর ধর্ষণের অভিযোগ, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাট এবং একই ঘটনায় ধর্ষণ মামলার বাদীকে আসামি করে পাল্টা মামলা দায়ের সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
দুটি মামলার অভিযোগের সত্যতা, মাদ্রাসায় লুটপাটের প্রকৃত ঘটনা এবং ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর