তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ২৬০ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩২ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং যাতায়াত ও চিকিৎসাসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের জন্য এ মজুরি নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে আইবিসির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের এ দাবি চূড়ান্ত করা হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি।
আইবিসির সভাপতি মীর আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে শ্রমিকদের যাতায়াত ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে চিকিৎসাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ। ফলে বর্তমান মজুরি দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন পোশাকশ্রমিকেরা।
সংগঠনটির মতে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কারণে বাজারে পণ্যমূল্যের অস্থিরতা আরও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পোশাকশ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায়। বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে তাঁদের আয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
এ পরিস্থিতি বিবেচনায় পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ২৬০ ডলার নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে আইবিসি। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে এ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩১ হাজার ৯৮০ টাকা, যা প্রায় ৩২ হাজার টাকা।
আইবিসি জানিয়েছে, পোশাক খাতের অন্যান্য গ্রেডের শ্রমিকদের মজুরির হারও শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে। সরকার নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করলে বোর্ডের চেয়ারম্যান ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির কাছে লিখিতভাবে মজুরি প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে।
এদিকে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
গত ১৫ অক্টোবর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কাছে চিঠি পাঠায়। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতির কাছে চিঠি দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৩ সালে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে সময় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। পাশাপাশি আগের সাতটি গ্রেড কমিয়ে পাঁচটি গ্রেডে নতুন মজুরিকাঠামো কার্যকর করা হয়।
আইবিসির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ওই সভায় সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন, সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুল হক, সহসভাপতি চায়না রহমান এবং কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল আমিন, বাবুল আক্তার, রাশেদুল আলম, তাহমিনা রহমান, খাদিজা রহমান, জাহিদুল ইসলাম ও আবু বক্কর সিদ্দিকসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য এর সর্বশেষ খবর