সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ নামের একটি এনজিওর পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ বলছে, তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অর্থায়ন এবং ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছে।
গোয়েন্দা শাখার তদন্তের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে বলা হয়েছে, শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা ও এনজিওর মাধ্যমে অর্থ সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে অনলাইনে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভারতে তার বাড়ি, জমি ও ব্যাংক হিসাব থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রেরণা এনজিওর কার্যালয় শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকায়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কালীগঞ্জে কার্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও ওই ঠিকানা ব্যবহার করে নারী উদ্যোক্তা সংগঠনের জন্য বরাদ্দ অনুদান তোলা হয়েছে। মহিলা অধিদপ্তরের তালিকায় কালীগঞ্জের ঠিকানায় কয়েক দফায় ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান উত্তোলনের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মহিলা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার বলেন, শম্পা গোস্বামীর পরিচালিত এনজিও প্রেরণার বিষয়ে আমার ওপর তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে আমার কাছে প্রেরণা এনজিওর গত ১০ বছরের অনুদানের তালিকা চাওয়া হয়েছে, যার তদন্ত চলছে। সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, প্রেরণা এনজিওর মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পুনর্বাসন ও অর্থায়নের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে বলে দাবি করেন এবং গ্রেপ্তারের দাবি জানান। মানবাধিকার কর্মী রঘুনাথ খাঁ প্রেরণা এনজিওর মাধ্যমে অর্থপাচার ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ তুলে লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান। সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ বলেন, সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ তাঁকে খুঁজছে। এদিকে সাংবাদিক কাজী জামাল উদ্দিন মামুনের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে পুলিশ মামলা করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে বলা হয়েছে। তবে মামলার সুনির্দিষ্ট ধারা, এজাহারের বিস্তারিত এবং অভিযুক্ত শম্পা গোস্বামীর বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মোজাহার মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান বাপ্পী বলেন, শম্পা গোস্বামী একজন বিতর্কিত নারী। তাঁকে আটক করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে অধিকতর তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর