শুধু শিক্ষিত হওয়া নয়, মানুষকে নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পরিবার, বিদ্যালয় ও রাষ্ট্র যদি নাগরিক দায়িত্ববোধ শেখাতে ব্যর্থ হয়, তার মূল্য দিতে হয় সমাজকে—কখনো বিদেশের আদালতে, কখনো কারাগারে, কখনো দেশের সম্মানের সংকটে।
একটি জাতির শিক্ষাব্যবস্থা কতটা সফল, তা কি শুধু পরীক্ষার ফলাফল, ডিগ্রি কিংবা চাকরি পাওয়ার হার দিয়ে বিচার করা যায়? নাকি বিচার করতে হয় মানুষটি অন্যের অধিকার কতটা সম্মান করে, জনপরিসরে কতটা দায়িত্বশীল আচরণ করে এবং নিজের স্বাধীনতার সীমা কতটা বোঝে, তা দিয়েও?
প্রশ্নটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষায় ভালো ফল করার চাপ যতটা প্রবল, বাস্তব জীবনে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে ওঠার শিক্ষাটি ততটা দৃশ্যমান কি না, তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবার অবকাশ রয়েছে।
একজন মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেও রাস্তায় ময়লা ফেলতে পারেন, ফুটপাত দখল করতে পারেন, ট্রাফিক আইন অমান্য করতে পারেন, অন্যের ব্যক্তিগত পরিসরকে অসম্মান করতে পারেন। আবার খুব বেশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকা একজন মানুষও নিজের দায়িত্ব, সামাজিক শিষ্টাচার ও অন্যের অধিকারের বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন হতে পারেন।
Civic Sense বলতে বোঝায়—একজন নাগরিক হিসেবে নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকা, সামাজিক নিয়ম মেনে চলা, জনসম্পদ রক্ষা করা এবং অন্য মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করা।
এর পরিধি শুধু আইনকানুন জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আত্মসংযম, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ এবং পরিস্থিতি বুঝে আচরণ করার ক্ষমতা।

রাস্তার ট্রাফিক সিগন্যালে পুলিশ নেই, তবু লাল বাতিতে থেমে থাকা Civic Sense। কেউ দেখছে না, তবু যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা Civic Sense। কোনো নারী, শিশু কিংবা দুর্বল অবস্থানে থাকা মানুষকে নিজের আচরণে বিব্রত বা অনিরাপদ না করা Civic Sense। অন্য দেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও আইন সম্পর্কে জেনে সেখানে দায়িত্বশীল আচরণ করাও এর অংশ।
সহজ কথায়, আমি যা করতে পারি, তা কি আমার করা উচিত? আমার আচরণে অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে কি না? আমি যে সমাজে আছি, সেখানে আমার দায়িত্ব কী?—এই প্রশ্নগুলো বুঝে চলার নামই নাগরিক বোধ।
আমাদের সমাজে নাগরিক বোধের ঘাটতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অনেকেই বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষই Civic Sense বোঝেন না। ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ থেকে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ Civic Sense জানেন না—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য জাতীয় জরিপ বা গবেষণার তথ্য ছাড়া সংখ্যাটিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য বলা যাবে না।
তবে সংখ্যাটির বিতর্কের বাইরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে: নাগরিক আচরণ শেখানোর জন্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকর?

ঢাকার রাস্তায় যত্রতত্র ময়লা ফেলা, যানবাহনের বিশৃঙ্খলা, ফুটপাত দখল, অপ্রয়োজনীয় হর্ন, গণপরিসরে অন্যের অসুবিধার প্রতি উদাসীনতা—এসব দৃশ্য নাগরিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবে এসব সমস্যার জন্য কেবল ব্যক্তির নৈতিকতাকে দায়ী করলেও চলবে না। দুর্বল নগর ব্যবস্থাপনা, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, আইন প্রয়োগের অসংগতি এবং জবাবদিহির অভাবও ভূমিকা রাখে।
অর্থাৎ, সমস্যাটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান—উভয় পর্যায়েই বিবেচনা করতে হবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রমে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’সহ বিভিন্ন বিষয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব, রাষ্ট্র, সমাজ, অধিকার ও দায়িত্বের মতো বিষয় শেখানো হয়। শিক্ষা ও নৈতিকতার বিভিন্ন দিকও পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষানীতি এবং নাগরিকত্ব ও বৈশ্বিক নাগরিকত্ব শিক্ষাবিষয়ক নথিতেও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়েছে। UNESCO-র বাংলাদেশবিষয়ক শিক্ষাক্রম পর্যালোচনাতেও এ ধরনের শিক্ষার উপস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন হলো, নাগরিক শিক্ষার বিষয়বস্তু পাঠ্যবইয়ে থাকা সত্ত্বেও বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ কতটা হচ্ছে?
কোনো শিক্ষার্থী যদি বইয়ে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব পড়ে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পায়, কিন্তু স্কুলের বাইরে রাস্তায় আবর্জনা ফেলে, তাহলে বুঝতে হবে জ্ঞান ও আচরণের মধ্যে ব্যবধান রয়ে গেছে। কেউ যদি মানবিকতা ও অন্যের অধিকার সম্পর্কে রচনা লিখতে পারে, কিন্তু বাস্তবে অন্যের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করতে না শেখে, তাহলে শিক্ষার উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে কি না, তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সমস্যাটি তাই শুধু পাঠ্যবইয়ের অনুপস্থিতি নয়; সমস্যা হলো, নাগরিক শিক্ষাকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে পারছি কি না।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’র পরিবর্তে সব শ্রেণিতে Civic Sense-এর আলাদা বই চালু করা উচিত। এই প্রস্তাবের পেছনে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সমাধান হিসেবে বিদ্যমান বিষয়গুলো সরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে আরও কার্যকর একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে।
ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে নাগরিক শিক্ষা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, আইনের শাসন, জনপরিসরের আচরণ, নাগরিক অধিকার, সামাজিক সহাবস্থান এবং ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি সম্মান শেখাতে পারে। বিষয় দুটির মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।
তাই Civic Sense-কে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সব ধর্মের অনুসারী এবং ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় জীবনমুখী শিক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
প্রাথমিক শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বয়স উপযোগী একটি পৃথক ও বাধ্যতামূলক ‘নাগরিক বোধ ও জীবনাচরণ’ বিষয় চালু করা যেতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যমান বিষয়গুলোতেও এর উপাদান আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

রাশিয়ায় বাংলাদেশিদের আচরণ নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে
রাশিয়ায় বসবাস, পড়াশোনা কিংবা কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের বিষয়ে ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন অভিযোগের কথা সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে দোকান থেকে চুরি, আবাসিক হলের নিয়ম ভঙ্গ, নারীদের প্রতি অশালীন আচরণ, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট পাঠানো, যৌন নিপীড়নের চেষ্টা এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধের মতো গুরুতর বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা সত্য হলে তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটির স্বাধীন যাচাই, নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন, পুলিশি তথ্য বা আদালতের নথি ছাড়া রাশিয়ায় বাংলাদেশিদের মধ্যে অপরাধের ব্যাপকতা কিংবা প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। হাজার হাজার বাংলাদেশি জেলে রয়েছেন বা নির্দিষ্ট কোনো অপরাধ এখন নিয়মিত ঘটছে—এমন সিদ্ধান্তেও যাচাইযোগ্য তথ্য ছাড়া পৌঁছানো উচিত নয়।
একইভাবে, কোনো নির্দিষ্ট সৈকতে বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশের পতাকা ব্যবহার করা হয়েছে—এমন দাবি থাকলে স্থানটির পরিচয়, নিষেধাজ্ঞার প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে অভিযোগগুলোকে যাচাই করার প্রয়োজন আছে বলেই বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না। বরং প্রশ্ন উঠতে পারে: বিদেশে পড়তে বা কাজ করতে যাওয়া মানুষের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, দিকনির্দেশনা এবং স্থানীয় আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে কি?
বিদেশে গিয়ে কেউ অপরাধ করলে তার দায় ব্যক্তির। কিন্তু একই ধরনের সমস্যা প্রতিরোধে যদি আগাম প্রশিক্ষণ, দূতাবাসের দিকনির্দেশনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহায়তা কিংবা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ভূমিকার ঘাটতি থাকে, তাহলে সেই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাও চিহ্নিত করা জরুরি।
শাস্তি দিয়ে কি সভ্যতা শেখানো যায়?
শাস্তি আইন প্রয়োগের একটি প্রয়োজনীয় অংশ। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ অপরাধ প্রতিরোধে আইন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু শাস্তিই নাগরিক বোধ তৈরির একমাত্র উপায় নয়।
শিশু যখন পরিবারে শেখে যে নিজের সুবিধার জন্য অন্যকে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়, তখন তার মধ্যে সহমর্মিতা গড়ে ওঠে। বিদ্যালয়ে যখন সে নিজের শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার রাখে, সারিবদ্ধভাবে চলতে শেখে, সহপাঠীর মতামতকে সম্মান করে এবং যৌথ সম্পদের যত্ন নেয়, তখন নাগরিক দায়িত্ববোধের বাস্তব অনুশীলন হয়।
পরিবারে যদি বড়রা নিয়ম ভাঙেন, বিদ্যালয়ে যদি শিক্ষকরা দায়িত্বশীল আচরণের উদাহরণ না দেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেরাই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায়, তাহলে কেবল বইয়ের সংজ্ঞা মুখস্থ করিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা কঠিন।
তাই নাগরিক শিক্ষা হতে হবে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক—দুই ধরনের। শুধু পরীক্ষায় Civic Sense-এর সংজ্ঞা লিখতে পারলেই একজন শিক্ষার্থীকে নাগরিক বোধসম্পন্ন বলা যাবে না। তার আচরণেও সেই শিক্ষার প্রতিফলন ঘটতে হবে।
বাংলাদেশে নাগরিক বোধের চর্চা বাড়াতে কয়েকটি উদ্যোগ বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রথমত, সব শ্রেণিতে বয়স উপযোগী নাগরিক শিক্ষা। প্রাথমিক স্তরে পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা ও ভাগাভাগি; মাধ্যমিকে নাগরিক অধিকার, আইন, সম্মতি, ব্যক্তিগত পরিসর, ডিজিটাল আচরণ ও সামাজিক দায়িত্ব; উচ্চমাধ্যমিকে গণতন্ত্র, জনসম্পদ, কর্মক্ষেত্রের আচরণ এবং বৈশ্বিক নাগরিকত্ব শেখানো যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, মুখস্থনির্ভর পরীক্ষার পরিবর্তে আচরণভিত্তিক অনুশীলন। বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সারিবদ্ধভাবে চলা, বৃক্ষরোপণ, জনসম্পদের যত্ন, দলগত কাজ এবং সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানো যেতে পারে।
তৃতীয়ত, বিদেশগামীদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রাক্-যাত্রা প্রশিক্ষণ। গন্তব্য দেশের আইন, সংস্কৃতি, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, যৌন সম্মতি, শিশু সুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রের অধিকার এবং জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া প্রয়োজন।
চতুর্থত, পরিবার ও শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করা। শিশুর নাগরিক বোধ গঠনে পরিবারের আচরণ, বিদ্যালয়ের পরিবেশ এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ গুরুত্বপূর্ণ। তাই কেবল শিক্ষার্থীদের নয়, অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্যও সচেতনতামূলক কর্মসূচি প্রয়োজন।
পঞ্চমত, আইনের সমান প্রয়োগ ও জবাবদিহি। নাগরিককে নিয়ম মানতে বলার পাশাপাশি রাষ্ট্রকেও নিশ্চিত করতে হবে, আইন সবার ক্ষেত্রে ন্যায়সংগতভাবে প্রয়োগ হচ্ছে এবং জনপরিসর ব্যবহারের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রয়োজন শুধু বেশি ডিগ্রিধারী মানুষ নয়; প্রয়োজন এমন নাগরিক, যাঁরা নিজেদের অধিকার জানেন, অন্যের অধিকারকে সম্মান করেন, আইনের শাসন মেনে চলেন এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করেন। Civic Sense-কে বাধ্যতামূলক ও কার্যকর শিক্ষার অংশ করার দাবি তাই কেবল বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার দাবি নয়। এটি দেশের ভেতরেও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ার দাবি।
শিশুকে ছোটবেলা থেকেই শেখাতে হবে—স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছা তা করা নয়; স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বও জড়িত। নিজের অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, অন্যের অধিকারও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। আর সভ্যতা কেবল পোশাক, ভাষা, অর্থ কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতার পরিচয় নয়; সভ্যতা প্রকাশ পায় মানুষের আচরণে।
একটি জাতির ভবিষ্যৎ শুধু তার সন্তানদের কী শেখানো হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে না; তারা যা শিখছে, বাস্তব জীবনে তা কতটা প্রয়োগ করতে পারছে, তার ওপরও নির্ভর করে। বাংলাদেশে নাগরিক বোধের শিক্ষা তাই কোনো বিলাসিতা নয়। এটি একটি প্রয়োজনীয় সামাজিক বিনিয়োগ—যার সুফল পাওয়া যাবে বিদ্যালয়ে, রাস্তায়, কর্মক্ষেত্রে, পরিবারে এবং বিশ্বের প্রতিটি দেশে, যেখানে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক নিজের পরিচয় নিয়ে উপস্থিত হবেন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
খোলা কলাম এর সর্বশেষ খবর