গাজীপুরের কালীগঞ্জে পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের জেরে সুমি আক্তার (৩৮) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতের ছোট ভাই মো. সৈকত আলী তাঁর বোনকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন স্বামীর বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে কোনো একসময়ে উপজেলার মাল্লা ও হাটখোলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমি আক্তার কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের মাল্লা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে এবং হাটখোলা গ্রামের মোশারফ মিয়ার স্ত্রী। প্রায় ১৮ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয় এবং এই দম্পতির সংসারে ১টি সন্তান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে হাটখোলা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে মোশারফ মিয়ার সাথে সুমি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। নিহতের ছোট ভাই মো. সৈকত আলী অভিযোগ করে জানান, স্বামী মোশারফ মিয়া নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই তাঁর বোন সুমি আক্তারকে মারধর করতেন এবং তাঁর ওপর বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। সম্প্রতি এই নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তাঁর দাবি, এটি নিছক আত্মহত্যা নয়, বরং নির্যাতন চালিয়ে তাঁর বোনকে হত্যা করা হয়েছে। বিষপানের পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করা হলেও এর পেছনে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে ঘটনার দিন বুধবার সকালে স্বজনদের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশ সেখান থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে প্রথমে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, গৃহবধূর মৃত্যুর পর থেকেই স্বামী মোশারফ মিয়া ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাড়ি থেকে লাপাত্তা রয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে তাদের আর এলাকায় দেখা যায়নি। তারা পালিয়ে গেছেন নাকি অন্য কোথাও আত্মগোপন করে আছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতের ভাইয়ের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ ও হত্যার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর