সিলেটের বহুল আলোচিত রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বহিষ্কৃত ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মামলার অন্য তিন আসামিকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী ১৫৭ পৃষ্ঠার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আশিক এলাহী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন। সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস এবং এসআই মো. হাসান উদ্দিন। তাদের মধ্যে হারুন অর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাসকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে হারুন অর রশিদকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে হাসান উদ্দিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী এবং আকবরের আত্মীয় সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর রাতে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদকে ধরে নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা নির্যাতন করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।
ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনে রায়হানের শরীরে ৯৭টি আঘাতের চিহ্ন এবং হাত ও পায়ের নখ উপড়ে ফেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয় এবং বিচার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলায় ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি সম্পন্ন হয়। এরপর বৃহস্পতিবার আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
আইন ও আদালত এর সর্বশেষ খবর