যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকা এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২২ দশমিক ১৯ ডলারে নেমেছে। এতে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো দরপতনের পথে রয়েছে মূল্যবান এই ধাতু।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম কমে যায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ বুধবার নীতিসুদ অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে চলতি বছরের ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে উদ্বেগ রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ ধরে নিয়ে লেনদেন করছেন ব্যবসায়ীরা।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক বা পিসিই (PCE) মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে। ফেডারেল রিজার্ভের পছন্দের মূল্যস্ফীতি পরিমাপক হিসেবে পরিচিত এই সূচকের তথ্য বৃহস্পতিবার ১২টা ৩০ মিনিট GMT-তে প্রকাশের কথা রয়েছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ও আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান রয়টার্সকে বলেন, পিসিইর মূল্যস্ফীতির তথ্য বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে স্বর্ণের দাম আবারও প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে। এতে ডিসেম্বরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের পরিবর্তে সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদে বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারেন। এতে স্বর্ণের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়।
হান তান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে স্বর্ণবাজারে নতুন অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তেলের দাম আবার প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলার বা তার বেশি হলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আরও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করতে পারে, যা স্বর্ণের দামের জন্য নেতিবাচক হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনায় বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও পতন দেখা গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫২ দশমিক ৬৭ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫০২ দশমিক ৬১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য, ফেডের সম্ভাব্য সুদনীতি এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে স্বর্ণবাজারের পরবর্তী গতিপথ।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর