বিটরুট সালাদ, চিয়া পুডিং কিংবা পোহা—স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ভালোবাসা রয়েছে বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের। তবে চকলেট, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর স্প্যাগেটির প্রতিও তাঁর আকর্ষণ কম নয়। পর্দার ব্যস্ত জীবন সামলেও খাবারের স্বাদ ও পুষ্টির মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু কী কী খাবার পছন্দ করেন আলিয়া? আর সেগুলোর পুষ্টিগুণই বা কী?
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট শুধু অভিনয় কিংবা ফ্যাশনের জন্যই আলোচনায় থাকেন না; তাঁর জীবনযাপন, শরীরচর্চা ও খাবারের পছন্দ নিয়েও ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিটরুট সালাদ ও চিয়া পুডিংয়ের রেসিপি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
৩৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নোত্তর এবং নিজের ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওতে খাবার নিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দের কথা জানিয়েছেন। সেসব আলোচনায় যেমন উঠে এসেছে পুষ্টিকর খাবারের প্রসঙ্গ, তেমনি জায়গা পেয়েছে সাধারণ ঘরোয়া রান্না ও মুখরোচক খাবার।
পোহা ও ছাছ: আলিয়ার বিশেষ পছন্দ
আলিয়ার প্রিয় খাবারের তালিকায় অন্যতম পোহা ও ছাছ। ভারতীয় খাদ্যসংস্কৃতিতে জনপ্রিয় এই দুই খাবার সহজলভ্য উপাদান দিয়ে তৈরি করা যায়।
পোহা মূলত চিড়া দিয়ে তৈরি একটি খাবার। সাধারণত পেঁয়াজ, সরিষা, কারিপাতা, বাদাম ও বিভিন্ন সবজি দিয়ে এটি রান্না করা হয়। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সকালের নাশতা হিসেবে পোহা বেশ জনপ্রিয়।
চিড়া থেকে মূলত শর্করা পাওয়া যায়, যা শরীরে শক্তি জোগায়। এর সঙ্গে বাদাম, ডাল বা সবজি যোগ করলে খাবারটির প্রোটিন, আঁশ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, ছাছ হলো দই ও পানি দিয়ে তৈরি একধরনের পানীয়। অনেক সময় এতে জিরা, লবণ ও বিভিন্ন মসলা ব্যবহার করা হয়। দইয়ের কারণে এতে কিছু প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। তবে পুষ্টিমান নির্ভর করে ব্যবহৃত দই ও অন্যান্য উপাদানের ওপর।
আলিয়া একবার নিজের পছন্দের খাবারের কথা বলতে গিয়ে জানিয়েছিলেন, যদি একটি খাবার বেছে নিতে হয়, তাহলে তিনি পোহা ও ছাছই বেছে নেবেন।

বিটরুট সালাদ: জনপ্রিয় রেসিপির একটি
আলিয়ার খাবার নিয়ে আলোচনায় বিটরুট বা বিটের সালাদের নাম প্রায়ই উঠে আসে। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি এই সালাদ তৈরির পদ্ধতি দেখিয়েছেন।
বিটরুট সালাদে সাধারণত সেদ্ধ বিট, দই, বিভিন্ন মসলা ও স্বাদবর্ধক উপাদান ব্যবহার করা হয়। বিটে রয়েছে ফোলেট, পটাশিয়াম ও খাদ্যআঁশ। এতে থাকা বিটালেইন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক উপাদানটির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য নিয়েও গবেষণা হয়েছে।
তবে বিটরুট খেলে শরীরের সব ধরনের সমস্যা দূর হবে কিংবা দ্রুত ওজন কমবে—এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। এটি সুষম খাদ্যতালিকার একটি পুষ্টিকর উপাদান হতে পারে।

চিয়া পুডিং: সহজ খাবারে পুষ্টির সমন্বয়
আলিয়ার পছন্দের আরেকটি আলোচিত খাবার চিয়া পুডিং। চিয়া বীজ দুধ বা অন্য কোনো তরলে ভিজিয়ে রেখে এই খাবার তৈরি করা হয়। এর সঙ্গে ফল, বাদাম কিংবা অন্যান্য উপাদান যোগ করা যায়।
চিয়া বীজে রয়েছে খাদ্যআঁশ, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি ধরন, যার নাম আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড বা এএলএ।
আঁশসমৃদ্ধ খাবার হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। তবে চিয়া পুডিংয়ের সামগ্রিক পুষ্টিমান নির্ভর করে এতে কী ধরনের দুধ, ফল, মিষ্টি বা অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর।
ঘরোয়া খাবারের প্রতি আলিয়ার ভালোবাসা
তারকাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অনেকের ধারণা, তাঁরা হয়তো প্রতিদিন দামি কিংবা ব্যতিক্রমী খাবার খান। কিন্তু আলিয়ার পছন্দের তালিকায় রয়েছে পরিচিত অনেক ঘরোয়া খাবারও।
ডাল-ভাত, ঢেঁড়স, টমেটোর তরকারি ও দইয়ের বিভিন্ন পদ তাঁর পছন্দ। এ ছাড়া মাখানাও খেতে ভালোবাসেন তিনি।
মাখানা মূলত ফক্স নাট নামে পরিচিত একধরনের ভোজ্য বীজ, যা সাধারণত ভেজে বা মসলা মিশিয়ে খাওয়া হয়। ভারতে এটি জনপ্রিয় হালকা নাশতা।
ডাল-ভাতের মতো সাধারণ খাবারও পুষ্টিকর হতে পারে। ভাত থেকে শর্করা এবং ডাল থেকে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও আঁশ পাওয়া যায়। এর সঙ্গে সবজি ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যোগ করলে খাবারটি আরও বৈচিত্র্যময় হয়।
আলিয়ার ঘরোয়া খাবারের প্রতি ভালোবাসা মনে করিয়ে দেয়, পুষ্টিকর খাবার মানেই সব সময় ব্যয়বহুল বা বিদেশি কোনো উপাদান নয়।

আলু আর চকলেটের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা
স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি আলিয়ার পছন্দের তালিকায় রয়েছে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, স্প্যাগেটি ও চকলেট।
নিজের খাবারের পছন্দ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আলু ও চকলেটের প্রতি ভালোবাসার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মজার বিষয় হলো, ছোটবেলায় আলিয়াকে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরা ‘আলু’ নামে ডাকতেন। তাঁর এই ডাকনামের সঙ্গে প্রিয় খাবারের মিল নিয়ে ভক্তদের মধ্যেও রয়েছে কৌতূহল।
তবে আলু নিজে অস্বাস্থ্যকর কোনো খাবার নয়। এতে শর্করা, পটাশিয়াম ও ভিটামিন সি পাওয়া যায়। আলু কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, কতটা তেল বা লবণ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কত পরিমাণে খাওয়া হচ্ছে—এসব বিষয় এর পুষ্টিগত প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
যেমন সেদ্ধ আলু ও অতিরিক্ত তেলে ভাজা ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের পুষ্টিগত বৈশিষ্ট্য এক নয়।
একইভাবে চকলেটও পরিমাণ ও ধরন অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় জায়গা পেতে পারে। তবে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরিযুক্ত খাবার নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়।
পছন্দের খাবার বাদ দেওয়াই কি সুস্থ থাকার উপায়?
অনেকেই মনে করেন, সুস্থ থাকতে হলে পছন্দের সব মুখরোচক খাবার বাদ দিতে হবে। বাস্তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মূল বিষয় হলো দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা এবং খাবারের পরিমাণ ও বৈচিত্র্যের দিকে নজর রাখা।
বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফলমূল, শস্য, ডাল ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বির ব্যবহার সীমিত রাখা উচিত।
আলিয়ার প্রকাশ্যে জানানো খাবারের পছন্দে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি মুখরোচক খাবারের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে তিনি প্রতিদিন কোন খাবার কতটা পরিমাণে খান, তা এসব বক্তব্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
তারকার খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করার আগে যা জানা জরুরি
আলিয়া ভাটের খাবারের পছন্দ ভক্তদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। তবে কোনো তারকার খাদ্যাভ্যাস হুবহু অনুসরণ করলেই একই ধরনের শারীরিক গঠন কিংবা স্বাস্থ্যগত ফল পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
প্রত্যেক মানুষের বয়স, দৈহিক গঠন, শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও পুষ্টির চাহিদা আলাদা। একজন অভিনেত্রীর দৈনন্দিন কাজের ধরন এবং শরীরচর্চার প্রয়োজনও সাধারণ মানুষের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে।
তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় কোনো খাবার বা রেসিপি অনুসরণ করার আগে সেটির পুষ্টিমান ও নিজের প্রয়োজন বিবেচনা করা উচিত।
খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্মৃতি ও ভালোবাসাও
আলিয়ার খাবারের পছন্দের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়—দামি কিংবা বিশেষ ধরনের খাবারের পাশাপাশি সাধারণ ঘরোয়া খাবারের প্রতিও তাঁর টান রয়েছে।
পোহা, ছাছ, ডাল-ভাত কিংবা ঢেঁড়সের মতো পরিচিত খাবার যেমন তাঁর পছন্দ, তেমনি চকলেট ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের মতো খাবারও সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
খাবার কেবল শরীরের পুষ্টির উৎস নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শৈশবের স্মৃতি, পারিবারিক অভ্যাস, সংস্কৃতি ও ব্যক্তিগত ভালো লাগা।
আলিয়া ভাটের খাবারের পছন্দ নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের পেছনেও সম্ভবত কাজ করে সেই পরিচিত অনুভূতি—পর্দার তারকাও ভালোবাসেন আমাদের প্রতিদিনের চেনা অনেক খাবার।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর