বলিউডের গ্যাংস্টার ড্রামা ও অ্যাকশন থ্রিলারধর্মী সিনেমার জন্য পরিচিত নির্মাতা সঞ্জয় গুপ্ত আর নেই। মুম্বাইয়ের ভারসোভায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রাতে বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এই নির্মাতা। তবে ঘটনার সময় বিষয়টি কারও নজরে আসেনি। পরদিন ভোরে তার মৃত্যুর খবর সামনে আসে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভারসোভা পুলিশ। এ ঘটনায় একটি অ্যাকসিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট (এডিআর) নথিভুক্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত এ মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ষড়যন্ত্র বা নাশকতার আলামত পাওয়া যায়নি।
সঞ্জয় গুপ্তের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও নির্মাতা মিলাপ জাভেরিও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নির্মাতা অশোক পণ্ডিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে তার আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে অনু লেখির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সঞ্জয় গুপ্ত। একসময় তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটলেও পরবর্তীতে আবারও একসঙ্গে জীবন শুরু করেন তারা।
দীর্ঘ ২৫ বছরের চলচ্চিত্রজীবনকে একবার ‘সাফল্য ও ব্যর্থতার মিশ্রণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন এই নির্মাতা। ক্যারিয়ারের নানা উত্থান-পতন পেরিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারার সন্তুষ্টির কথাও বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরেছিলেন তিনি।
১৯৯৪ সালে ‘আতিশ: ফিল দ্য ফায়ার’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন সঞ্জয় গুপ্ত। তবে ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কাঁটে’ তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। অমিতাভ বচ্চন, সঞ্জয় দত্ত, সুনীল শেঠি, লাকি আলী ও মহেশ মাঞ্জরেকার অভিনীত সিনেমাটি বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি গ্যাংস্টার-থ্রিলার নির্মাতা হিসেবে তার অবস্থান শক্ত করে।
‘কাঁটে’র সাফল্যের পর ক্যারিয়ারে ভালো সময় কাটালেও অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণে দীর্ঘ প্রায় চার বছর কাজহীন থাকতে হয় তাকে। এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় গুপ্ত জানিয়েছিলেন, সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে মনোমালিন্যের পর বলিউডের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন।
কঠিন সেই সময়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। এমনকি মানসিক অবসাদ কাটাতে খান্দালার একটি হোটেলে সপ্তাহে চার দিন চাকরি শুরু করেছিলেন। তার মনে হয়েছিল, চলচ্চিত্রজগতে হয়তো আর কখনোই কাজের সুযোগ পাবেন না।
তবে জীবনের সেই অন্ধকার সময় থেকে তাকে ফিরিয়ে আনে পুত্রসন্তানের জন্ম। সেই স্মৃতিচারণ করে একবার তিনি বলেছিলেন, ছেলেকে কোলে নিয়ে ভাবছিলেন, তার ভবিষ্যতের জন্য কী রেখে যাবেন। মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকে কাজ শুরু করা এবং ২২ বছর বয়সে প্রথম সিনেমা নির্মাণের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ৪০ বছর বয়সে কেন হাল ছেড়ে দেবেন—নিজেকেই এমন প্রশ্ন করেছিলেন তিনি।
এরপর প্রযোজক একতা কাপুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সঞ্জয় গুপ্ত। তার কাছে ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’ নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে যান। সেই উদ্যোগই তার ক্যারিয়ারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়।
২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’র মাধ্যমে দুর্দান্তভাবে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। এরপর ২০১৫ সালে ‘জাজবা’ এবং ২০১৭ সালে হৃতিক রোশন অভিনীত ‘কাবিল’ নির্মাণ করেন। পরবর্তী সময়ে ‘মুম্বাই সাগা’, ‘বিসফট’ ও ‘দ্য মিরান্ডা ব্রাদার্স’-এর মতো সিনেমা ও প্রজেক্টেও কাজ করেছেন এই নির্মাতা।
বলিউডে নিজস্ব নির্মাণশৈলী ও গ্যাংস্টার ঘরানার সিনেমার মাধ্যমে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন সঞ্জয় গুপ্ত। তার আকস্মিক মৃত্যুর খবরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর