দেশে হামের প্রাদুর্ভাব যেন কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। অক্টোবর মাসজুড়েই হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত এক মাসে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে ১৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ, এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচজনের প্রাণ গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১১০ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা যান ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় ১ হাজার ৯ জনের। এক মাসের ব্যবধানে ১ নভেম্বর এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৪ জনে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক মাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ১৪৪ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৪ জন বেড়ে ১০৫ হয়েছে। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৯ জন থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৯ জনে। অর্থাৎ, মোট মৃত্যুর বড় অংশই এখনো হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া রোগীদের।
অক্টোবরের শেষ সপ্তাহেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৪২ জন। ২৯ অক্টোবর তা বেড়ে ১ হাজার ২৪৯ জনে পৌঁছায়। ৩০ অক্টোবর দাঁড়ায় ১ হাজার ২৫১ জনে এবং ৩১ অক্টোবর ১ হাজার ২৫২ জনে। ১ নভেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে আরও দুই মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়।
অন্যদিকে, শুধু মৃত্যুই নয়, আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও উদ্বেগজনক। ১ নভেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ লাখ ৪ হাজার ৭৮৩ জন। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৯৬ হাজার ১৮৩ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ১৩ জন। তাঁদের মধ্যে ২৩ হাজার ৯৩৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
বিশ্লেষণ: অক্টোবর মাসের মৃত্যুর পরিসংখ্যান বলছে, হাম পরিস্থিতি এখনো জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে নিশ্চিত হামের তুলনায় উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। শিশুদের সংক্রমণ প্রতিরোধ, সময়মতো শনাক্তকরণ এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক হেলথ বুলেটিন
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর