সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ বনদস্যুমুক্ত করা, বনজীবীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন সুন্দরবন উপকূলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বনজীবীরা।
রোববার (২ নভেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সুন্দরবন বনদস্যু নির্মূল কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মো. সালাউদ্দীন লিটনের নেতৃত্বে জেলে-বাওয়ালিদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ ও পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমের কাছে স্মারকলিপি তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জি এম মাছুম বিল্লাহ, খাইরুল ইসলাম মিলন, আরাফাত হোসেন, জি এম আব্দুর রহিম, বাবলুর রহমান, বিল্লাল হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় পরিবেশের অমূল্য সম্পদ সুন্দরবন বনদস্যুদের তৎপরতায় হুমকির মুখে পড়েছে। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল জীবিকার তাগিদে নিয়মিত বনে প্রবেশ করেন। কিন্তু বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির কারণে তাঁদের জীবন ও জীবিকা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
বিশেষ করে সুন্দরবনসংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও কৈখালী এলাকার বনজীবীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। বনদস্যুদের ভয়ে অনেক জেলে নিরাপদে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন না বলেও দাবি করা হয়।
সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে স্মারকলিপিতে ১০টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সমন্বিত ও কার্যকর অভিযান পরিচালনা, গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, নদী ও খালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় বন্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা, অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধার, বনজীবীদের জন্য জরুরি যোগাযোগ ও উদ্ধারব্যবস্থা চালু এবং বনদস্যুদের সহযোগী ও অর্থায়নকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা।
এ ছাড়া নিয়মিত যৌথ টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা জোরদার, ক্ষতিগ্রস্ত বনজীবীদের সহায়তা ও পুনর্বাসন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বন বিভাগ ও স্থানীয় বনজীবীদের সমন্বয়ে স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা গঠন এবং সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনার দাবিও জানানো হয়েছে।
সুন্দরবন বনদস্যু নির্মূল কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মো. সালাউদ্দীন লিটন বলেন, ‘আমরা পাঁচ দিনের কর্মসূচি পালন করেছি। শ্যামনগর ও হরিনগরে মানববন্ধন শেষে আজ প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। আমাদের একটাই দাবি, সুন্দরবন হবে বনদস্যুমুক্ত, নিরাপদ হবে জেলে-বাওয়ালিদের জীবন।’
তিনি আরও বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের সাত দিনের কর্মসূচি এবং পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর