• ঢাকা
  • ঢাকা, সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৮ সেকেন্ড পূর্বে
সম্পাদনা: সালাউদ্দিন আহমেদ
শিফট-ইন-চার্জ
প্রকাশিত : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:৪৮ দুপুর

বেশি র‍্যামের ফোন মানেই কি বেশি গতি? জেনে নিন আসল বিষয়

ছবি: গ্রাফিক্স আর্ট

স্মার্টফোন কেনার সময় ক্রেতাদের অন্যতম আগ্রহ থাকে ফোনের র‍্যাম নিয়ে। দোকানে গেলেই প্রথম প্রশ্নগুলোর একটি থাকে, ‘কত জিবি র‍্যাম?’ অনেকের ধারণা, র‍্যাম যত বেশি হবে, ফোনের গতিও তত বেশি হবে। স্মার্টফোনের বিজ্ঞাপনেও ৮ জিবি, ১২ জিবি কিংবা ১৬ জিবি র‍্যামের বিষয়টি বড় করে তুলে ধরা হয়। তবে বাস্তবে ফোনের পারফরম্যান্স শুধু র‍্যামের ওপর নির্ভর করে না।

শুধু র‍্যামের পরিমাণ বিবেচনা করে ফোন কিনলে প্রত্যাশিত স্মুথ পারফরম্যান্স নাও পাওয়া যেতে পারে। প্রসেসর, স্টোরেজের ধরন এবং সফটওয়্যারের অপটিমাইজেশনসহ বেশ কয়েকটি বিষয় ফোনের গতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্মার্টফোনের র‍্যাম নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা এবং ফোন কেনার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় বিবেচনা করা জরুরি, সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।

র‍্যাম আসলে কী কাজ করে?

র‍্যাম হলো স্মার্টফোনের অস্থায়ী মেমোরি। ফোনে চালু থাকা অ্যাপগুলো দ্রুত ব্যবহারের উপযোগী রাখতে এটি কাজ করে। যেমন, কেউ ফেসবুক ব্যবহার করার পর ইউটিউবে গেলেন, এরপর আবার ফেসবুকে ফিরে এলেন। ফোনে পর্যাপ্ত র‍্যাম থাকলে ফেসবুক আগের অবস্থান থেকেই চালু হতে পারে। কিন্তু র‍্যাম কম থাকলে অ্যাপটি নতুন করে লোড হতে পারে।

অর্থাৎ, র‍্যামের মূল কাজ একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালু রাখা এবং অ্যাপের মধ্যে দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা দেওয়া। এটি সরাসরি অ্যাপের নিজস্ব কাজের গতি বাড়ায় না।

প্রসেসরই ফোনের আসল মস্তিষ্ক

স্মার্টফোনের সামগ্রিক গতি ও পারফরম্যান্স অনেকটাই নির্ভর করে প্রসেসরের ওপর। ৮ জিবি র‍্যামের পুরোনো বা দুর্বল প্রসেসরের ফোনের তুলনায় ৬ জিবি র‍্যামের আধুনিক প্রসেসরযুক্ত ফোন অনেক সময় বেশি মসৃণভাবে কাজ করতে পারে।

বিশেষ করে গেমিং, ভিডিও এডিটিং এবং ক্যামেরায় ছবি বা ভিডিও প্রসেসিংয়ের মতো ভারী কাজে প্রসেসরের ভূমিকা বেশি। তাই ফোন কেনার আগে স্ন্যাপড্রাগন, মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি, অ্যাপল এ-সিরিজ কিংবা এক্সিনোস চিপের মডেল ও প্রজন্ম সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি।

স্টোরেজের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ

অনেকেই ফোনের স্টোরেজকে শুধু ছবি, ভিডিও ও ফাইল রাখার জায়গা হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে স্টোরেজের ধরনও ফোনের গতিতে প্রভাব ফেলে।

ইএমএমসি স্টোরেজ তুলনামূলক ধীর। অন্যদিকে ইউএফএস ২.২ এর চেয়ে দ্রুত এবং ইউএফএস ৩.১ বা ৪.০ আরও উন্নত গতির স্টোরেজ প্রযুক্তি। দ্রুত স্টোরেজ থাকলে অ্যাপ চালু করা, গেম লোড করা এবং ফাইল স্থানান্তরের মতো কাজ কম সময়ে করা যায়। তাই বেশি র‍্যাম থাকলেও ধীরগতির স্টোরেজের সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।

সফটওয়্যার ও অপটিমাইজেশনের প্রভাব

একই পরিমাণ র‍্যাম থাকা সত্ত্বেও দুটি স্মার্টফোনের পারফরম্যান্সে পার্থক্য দেখা যেতে পারে। এর অন্যতম কারণ সফটওয়্যারের মান ও অপটিমাইজেশন।

আইফোনে তুলনামূলক কম র‍্যাম থাকলেও হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বয়ের কারণে ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যায়। অন্যদিকে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের কিছু কাস্টম ইউআই তুলনামূলক ভারী হতে পারে। আবার কিছু ফোনে আগে থেকেই অনেক অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ইনস্টল করা থাকে, যা র‍্যাম ও প্রসেসরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। তাই ফোন কেনার আগে নির্দিষ্ট মডেলের সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে রিভিউ দেখে নেওয়া ভালো।

ভার্চুয়াল র‍্যাম কতটা কার্যকর?

বর্তমানে অনেক স্মার্টফোনের বিজ্ঞাপনে ‘৮ জিবি + ৮ জিবি এক্সটেন্ডেড র‍্যাম’ লেখা থাকে। তবে এই অতিরিক্ত র‍্যাম আসলে ফোনের স্টোরেজের একটি অংশ, যা ভার্চুয়াল র‍্যাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

স্টোরেজের গতি প্রকৃত র‍্যামের তুলনায় অনেক কম। তাই ভার্চুয়াল র‍্যাম কখনোই আসল র‍্যামের বিকল্প হতে পারে না। কিছু ক্ষেত্রে এটি অতিরিক্ত সুবিধা দিলেও শুধু ভার্চুয়াল র‍্যামের পরিমাণ দেখে ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য কত র‍্যাম যথেষ্ট?

সাধারণ ব্যবহার, যেমন ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, বিকাশ ও অনলাইন ক্লাসের জন্য ৬ জিবি র‍্যাম অধিকাংশ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে যথেষ্ট। তবে ৮ জিবি র‍্যাম হলে একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার কিংবা মাঝারি মানের গেম খেলার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়।

যারা নিয়মিত ফ্রি ফায়ার বা পাবজির মতো গেম খেলেন, তাদের জন্য ৮ থেকে ১২ জিবি র‍্যামের ফোন ভালো বিকল্প হতে পারে। অন্যদিকে ১৬ জিবি বা তার বেশি র‍্যাম অধিকাংশ সাধারণ ব্যবহারকারীর প্রয়োজন হয় না।

এখনো ৪ জিবি র‍্যামের ফোন ব্যবহার করা সম্ভব হলেও নতুন ফোন কেনার ক্ষেত্রে এই পরিমাণ র‍্যাম এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ সময়ের সঙ্গে অ্যাপ ও সফটওয়্যারের চাহিদা বাড়ছে।

ফোন কেনার আগে যেসব বিষয় দেখবেন

স্মার্টফোন কেনার সময় শুধু র‍্যামের পরিমাণ নয়, আরও কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে প্রসেসরের মডেল, স্টোরেজের ধরন, পর্দার রিফ্রেশ রেট, ব্যাটারির সক্ষমতা এবং সফটওয়্যার আপডেটের নীতি।

এ ছাড়া ইউটিউব ও বিভিন্ন প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট মডেলের বাস্তব ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে রিভিউ দেখে নিতে পারেন। দোকানে গিয়ে নিজে ফোন ব্যবহার করে একাধিক অ্যাপ চালু ও বন্ধ করে পারফরম্যান্স যাচাই করাও ভালো। পাশাপাশি কেনার আগে অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবার বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, স্মার্টফোনের ভালো পারফরম্যান্সের জন্য র‍্যাম গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই একমাত্র নির্ধারক নয়। ভালো প্রসেসর, দ্রুতগতির স্টোরেজ এবং উন্নত সফটও

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]