• ঢাকা
  • ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৫ সেকেন্ড পূর্বে
আব্দুল্লাহ আল নাইম
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:০৩ রাত

নোবিপ্রবির ১.৩৩ একর জমি বেদখলে, অনিশ্চয়তায় স্কুল প্রকল্প 

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অধিগ্রহণ করা ১ দশমিক ৩৩ একর জমি ২০ বছরেও দখলে নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আইনি জটিলতায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে প্রায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রকল্প। চলতি বছরের ১ জুন থেকে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও জমির দখল না পাওয়ায় এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক নথি অনুযায়ী, নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার মাধ্যমে ২০০৩-০৪ অর্থবছরে নোবিপ্রবির জন্য ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরে ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি সরকারি গেজেটের মাধ্যমে জমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে প্রকাশ করা হয়। তবে অধিগ্রহণ করা জমির মধ্যে সল্লা মৌজার ৭৬ নম্বর দাগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিআইপি গেস্টহাউস-সংলগ্ন ১ দশমিক ৩৩ একর জমি এখনো বেদখলে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জমিটির মালিকানা ও অধিগ্রহণপ্রক্রিয়া নিয়ে আব্দুস সাত্তারসহ কয়েকজনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরোধ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জমিটিকে তাঁদের বসতভিটা দাবি করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। পরে সরকারি গেজেট প্রকাশের পর অধিগ্রহণপ্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৮ সালে আব্দুস সাত্তারসহ কয়েকজন বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন।

২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ওই রিট খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জমির বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারীরা আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল পিটিশন দায়ের করেছেন। ফলে জমিটি নিয়ে আইনি জটিলতা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জমি দখলে নেওয়ার পরিবর্তে অধিগ্রহণ করা জমির মূল্য ফেরত চেয়ে তৎকালীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিক চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ২০০৮-০৯ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সঞ্জয় কুমার অধিকারীর সময়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০০৮ সালের ৮ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কাজী ফজলুল করিমের স্বাক্ষরে এবং ২০০৯ সালের ৭ জুলাই ও ১০ ডিসেম্বর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মমিনুল হকের স্বাক্ষরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তিনটি চিঠি পাঠানো হয়। এসব চিঠিতে জমির দখল বুঝে নেওয়ার পরিবর্তে অধিগ্রহণ করা জমির মূল্য ফেরত চাওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্রে পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে জমির তৎকালীন মালিকেরা ওই জমি ২১ জনের কাছে হস্তান্তর করেন। এতে জমির দখল বুঝে নেওয়ার বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়ে। বর্তমানে জমি-সংক্রান্ত রিটের বিরুদ্ধে দায়ের করা লিভ টু আপিল বিচারাধীন রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রকল্পটি নেওয়া হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুন দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে কাজ শুরু করে ২০২৮ সালের ২৭ জানুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত জমির বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কর্মকর্তা আশীষ শীল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির বিরুদ্ধে আব্দুস সাত্তারসহ অন্যরা রিট করেছিলেন। তবে ওই রিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষেই রায় এসেছে। আশা করি, আমরা দ্রুত কাজ শুরু করতে পারব।’

প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মহিনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা জমির বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জমি-সংক্রান্ত বিষয়টি সমাধানের মাধ্যমে প্রকল্পের পরবর্তী কাজ শুরু করার বিষয়ে আমরা আশাবাদী। পাশাপাশি দ্রুত দরপত্র আহ্বানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হবে।’

বেদখলে থাকা জমি উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ফলাফল পাব।’

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]