সিরাজগঞ্জের তাড়াশে দুই মাসের বকেয়া বেতন চাওয়াকে কেন্দ্র করে মো. আল-আমিন হোসেন নামে এক মুয়াজ্জিন ও তার মাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর মাধবপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে দুই দিন ধরে আজান ও নামাজ বন্ধ থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার রাতে উপজেলার মাধবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আল-আমিন হোসেন মাধবপুর গ্রামের মো. চান মিয়ার ছেলে।
ভুক্তভোগী আল-আমিন হোসেন জানান, গত এক বছর এক মাস ধরে মাধবপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন। এ দায়িত্বের বিপরীতে তার দুই মাসের মোট ১৬ হাজার টাকা বেতন বকেয়া রয়েছে। বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য একাধিকবার মসজিদ কমিটির কাছে দাবি জানান তিনি।
আল-আমিনের অভিযোগর পরে গত সোমবার রাতে মসজিদের সাধারণত সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মসজিদের ক্যাশিয়ার মো. আব্দুল কুদ্দুসের কাছে বকেয়া বেতন চাইতে পাঠান পরে আব্দুল কুদ্দুস আল আল আমিনকে বলেন গ্রামের সমাজপ্রধান মো. আলতাব আলী তাকে বেতনের টাকা দিতে নিষেধ করেছেন। এ বিষয়ে রাতেই আলতাব আলীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে আলতাব আলী, মসজিদের সভাপতি ছবের আলী ও তাদের ছেলেসহ কয়েকজন মিলে তাকে ও তার মাকে মারধর করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় মুসল্লি ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী একজন ব্যক্তির বকেয়া পারিশ্রমিক চাওয়াকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনার অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত সমাজপ্রধান মো. আলতাব আলীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. ছবের আলী জানান, বেতন চাওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনার পর দুই দিন মসজিদে আজান ও নামাজ বন্ধ ছিল। মসজিদে তালা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তালা খোলার জন্য আমি সভাপতি হইনি। আমি মূর্খ মানুষ, গ্রামের লোকজন আমাকে সভাপতি বানিয়েছে।’
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর