কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় সরকারের কাছ থেকে খাস বন্দোবস্ত নেওয়া এক জলমহালে বিষ প্রয়োগ করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে ওই জলমহালে থাকা প্রায় সব প্রজাতির মাছ মারা গেছে বলে জানিয়েছে জলমহালের ইজরাদার। বিষ প্রয়োগে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার গুনধর ইউনিয়নের ফালিয়া বিল জলমহালে এ ঘটনা ঘটে।
জলমহলটির খাস বন্দোবস্ত গ্রহীতা মো: আতাউর রহমান ছালেক বলেন, প্রতিবছর ৩১ চৈত্র এই জলমহালটি সরকারিভাবে ইজারা দেয়া হয়। এ বছর মৎস্যজীবী সমিতিগুলো কম রাজস্ব প্রস্তাব করায় সরকার ইজারা দেয়নি। পরে আষাঢ় মাসের দিকে সরকারের তহবিলে ৪০ লাখ ৭০ হাজার টাকা রাজস্ব জমা দিয়ে দশ মাসের জন্য আমি এই জলমহাল বন্দোবস্ত আনি। কম সময় পাওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় পোনা এনে এখানে ছাড়ি। এই মাছগুলো পাঁচ মাসের যত্নে বিক্রির উপযোগী হয়। তিনি জানান, চার-পাঁচ দিন পর মাছ ধরার কথা ছিল। এজন্যে মাছগুলো মূল বিল থেকে অন্যপাশের জলাশয়ে (দাইড়ে) এনে জড়ো করা হয়েছিল। আর ওই জায়গাতেই বিষ দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
ছালেক আরও বলেন, ৮০ একর জমির এই বিল (জলমহাল) বন্দোবস্ত নিয়ে এতে আরও ১৫ লাখ টাকা খরচ করা হয়। আশা ছিল এখানে অন্তত কোটি টাকার মাছ পাওয়া যাবে। এই বিলে আমার সঙ্গে এলাকার ১৭-১৮ জন যুবক মাছ চাষে জড়িত। প্রকল্পে আইর, কাতল, মৃগেল, সরপুঁটি, গ্রাসকার্প, মিরর কার্প, রুই, চিংড়ি ও তারাবাইনসহ বিভিন্ন প্রজাতি মাছ ছিল। এছাড়াও প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া চাপিলাসহ দেশি প্রজাতির অনেক মাছ ছিল। এ পর্যন্ত মাত্র ১০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছিলেন তারা। দুর্বৃত্তরা বিষ প্রয়োগ করায় বেশিরভাগ মাছ ভেসে উঠেছে। এতে তাদের ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা দেন আতাউর রহমান ছালেক।
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে মুসলিমা বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। বিষ প্রয়োগের খবর পেয়ে আমরা প্রশাসন থেকে লোকজন পাঠিয়েছি। তারা পরিদর্শন করে এসেছে। আমি ক্ষতিগ্রস্তদের থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শোয়েব খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর