ভারতের হরিয়ানার ফরিদাবাদে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে এক প্রযুক্তি কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করেছেন তাঁর প্রতিবেশী। শুক্রবার রাতে এ ঘটনায় নিহত হন পরমজিৎ ধনখড়। তিনি সিঙ্গাপুর থেকে দুই দিন আগে দেশে ফিরেছিলেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে ফরিদাবাদের সেক্টর ২১সি এলাকার একটি বহুতল ভবনের পার্কিংয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। শনিবার (৭ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিম থেকে ফিরে নিজের নির্ধারিত পার্কিংয়ের জায়গায় প্রতিবেশী মোহন ওরফে মনু শর্মার গাড়ি দেখতে পান পরমজিৎ। গাড়িটি সরিয়ে নিতে বললে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল নিয়ে এসে পরমজিতের ওপর গুলি চালান মনু। প্রায় ১৫ রাউন্ড গুলির মধ্যে নয়টি তাঁর শরীরে লাগে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
নিহত পরমজিৎ ভারতের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টেক মাহিন্দ্রার এশিয়া অঞ্চলের কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ভিয়েতনামভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন। ভাতিজার বিয়েতে যোগ দিতে দুই দিন আগে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। আগামী ২৪ নভেম্বর বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।
তবে পার্কিং নিয়ে বিরোধই দুই পরিবারের দ্বন্দ্বের একমাত্র কারণ ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ। কয়েক দিন ধরেই তাদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। মনুর ছেলে পোষা কুকুর নিয়ে নিয়মিত ভবনের পার্কিং এলাকায় আসতেন। কুকুরের মলত্যাগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন পরমজিতের ছেলে সূর্য। এ নিয়ে চার-পাঁচ দিন আগেও দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর কয়েক দিন আগে মনু পরমজিতের ছেলেকে গালিগালাজ করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত মনু। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও ফরেনসিক দলের সদস্যরা। সেখান থেকে কয়েকটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পরমজিতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি দুই পরিবারের বিরোধের পেছনের কারণগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর