রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার অনুমতি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা চুক্তি বাস্তবে বাধার মুখে পড়েছে। চুক্তির প্রায় এক মাস পার হলেও রাশিয়া থেকে কোনো ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একাধিক জ্বালানিবাহী ট্যাংকার পথ পরিবর্তন করেছে। আইনগত জটিলতা ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে জ্বালানি ব্যবসায়ীরা রুশ ডিজেল কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অক্টোবরে রাশিয়ার প্রিমোরস্ক বাল্টিক বন্দর ছেড়ে যায় রুশ ট্যাংকার ‘তালিসমান’ এবং সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ‘লেরুও’। জাহাজ দুটির ঘোষিত গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল। তবে সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার ও জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নাগাদ একটি ট্যাংকার ব্রাজিলের দিকে এবং অন্যটি ভূমধ্যসাগরের দিকে যাত্রাপথ পরিবর্তন করে।
উত্তর আটলান্টিকে থাকা তৃতীয় একটি ট্যাংকারও নিউইয়র্কের পরিবর্তে গন্তব্য হিসেবে ‘ফর অর্ডারস’ দেখাচ্ছে। অর্থাৎ জাহাজটি কোথায় জ্বালানি খালাস করবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
গত ৯ অক্টোবর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের চুক্তির কথা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে রাশিয়া।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প আরও লেখেন, নভেম্বরে অতিরিক্ত ৫ লাখ টন এবং এরপর আরও ১০ লাখ টন ডিজেল পাঠাবে মস্কো।
চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়ার ডিজেল বিক্রি, পরিবহন, খালাস ও আমদানির ক্ষেত্রে আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে রুশ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ইউক্রেনের হামলার কারণে ডিজেল সংকট তৈরি হয়েছে—এমন যুক্তি তুলে ধরে এ পদক্ষেপ নেন ট্রাম্প।
এ লক্ষ্যে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের নির্দেশিকাও জারি করেছে। তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যেই আপত্তি তৈরি হয়েছে।
মূল জটিলতা হলো, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ রুশ ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ছাড় দিলেও রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির ওপর কংগ্রেসের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবসায়ী, ব্যাংক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল অঙ্গরাজ্যের বন্দর ও টার্মিনাল পরিচালনাকারীদের কাছে চিঠি লিখে রুশ জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘রুশ জ্বালানির অবৈধ ব্যবসা থেকে মুনাফা করার যেকোনো চেষ্টার কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।’
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর