ভয়ঙ্কর মৃত্যুকূপ খেলায় থেমে নেই রাশেদ!

প্রকাশিত: ০১ মে ২০১৮, ০২:৪৩ পিএম

নড়বড়ে মোটরইকেল আর প্রাইভেটকার নিয়ে জীবনকে বাজি রেখে খেলায় জয় করেছেন বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দর্শককে। ছোট-বড় অনেক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন, ভাগ্যক্রমে প্রাণেও বেঁচে গেছেন। তবুও হাল ছাড়েননি। ধরে রেখেছেন প্রচেষ্টা, পেয়েছেন আলোর দেখা।

খেলোয়ার নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার রাশেদ আহমেদ (৩০)। একটা পুরনো মোটরসাইকেল, যন্ত্রাংশেও মরীচা ধরেছে, দেখে মনে হবে চলাচলের অনুপযোগী। তাতে কি? রাশেদের ছোঁয়া পেলেই যেনো মোটরসাইকেলটি প্রাণ ফিরে পায়। ছুটতে থাকে দুরন্ত গতিতে। তাও আবার যে সে পথ দিয়ে নয়। ভয়ঙ্কর এক পথ মৃত্যুকূপ পাড়ি দিতে হয়।

অসংখ্য সরু কাঠের ফালি ভূমিতে পাশাপাশি দাঁড় করানো। তৈরি করা হয়েছে কূপের মতো একটা বৃত্ত। যার পুরোটাই ঝুঁকিতে চলতে হয়। এটাই নাকি রাশেদের চলার পথ। একটু এদিক ওদিক হলেই জীবনের শেষ ঠিকানায় চলে যেতে হবে। তবুও থেমে নেই, মনেও ভয় নেই, পিছু ফিরবার ইচ্ছে নেই। সাহশ, শক্তি ও মনোবল ধরে রেখে খেলতে থাকেন মৃত্যুকূপ খেলা।

মোটরসাইকেল স্টার্ট দিয়েই ভূমিতে দুই-চারবার ঘুড়েন। এরপরেই মোটরসাইকেল নিয়ে কাঠের দেওয়ালে উঠেন। ধীরেধীরে গতি বাড়ান, চোখের পলকেই বৃত্তাকার দেওয়ালে ঘুরতে থাকেন। কখনো উপরে, কখনো মাঝখানে, কখনো দুহাত উপরে, কখনো দুপা হ্যান্ডেলে। খেলা দেখান দর্শকদের মাতান বেশ স্বাচ্ছন্দে। উৎসুক দর্শকের অনেকেই ততোক্ষণে চোখ বন্ধ করে ফেলেন। চোখের সামনে এরকম ভয়ঙ্কর খেলা দেখার সাহস বা কয়জনের আছে?

এভাবে মিনিট দশেক খেলা চলে, কিছুক্ষণ পর খানিকটা বিরতি। ততোক্ষণে আরো দর্শক আসতে সুযোগ দেওয়া হয়। সবার মধ্যেই বেশ কৌতূহল কৌতূহল ভাব। ওদিকে প্রস্তুতি রাশেদ। তবে এবার মোটরসাইকেল নয়। বদলিতে দেখা গেলো একটা প্রাইভেট কার। তবে রাশেদ কি এবার প্রাইভেট কার দিয়ে গাড়ি খেলা দেখাবে?

কাঠের ঝুঁকিপূর্ণ দেওয়ালে কি গাড়ি চালানো সম্ভব? এমনি প্রশ্ন জাগতে শুরু করেছে দর্শকমহলে। মোটরসাইকেলের ন্যায় প্রাইভেটকার দিয়েও খেলা দেখাতে লাগলেন। চার চাকার এই প্রাইভেট কারের উপরেও তার বেশ নিয়ন্ত্রণ। খেলা চলাকালীন সময়ে গোটা খাচাটি দুলতে থাকে। তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই খেলায় ‘প্রাইভেট কার' এর সংযোজন ঘটান। সত্যি দেখলেই যেনো চমকে যেতে হয়। খেলা শেষ হওয়া মাত্রই করতালি দিয়ে সবাই তাকে স্বাগত জানান।

এভাবেই দ্বীর্ঘ ১২ বছর ধরে 'মৃত্যুকূপ খেলা' দেখিয়ে আসছেন নীলফামারী সৈয়দপুর উপজেলার প্রতিভাবান এই তরুণ। ভয়ঙ্কর এই খেলাকে এখন রাশেদ পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ডাক পেয়েছেন ভারত, চীন, নেপালসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। দর্শকের কাছে রাশেদ যেনো একজন ম্যাজিশিয়ান। যিনি নানান রকম চমক দেখাতে পারেন। তবে আসল ঘটনা অন্য। পুরোটাই চালকের মেধা, শ্রম ও ইচ্ছে শক্তির যোগফল। সাথে কিছুটা ভাগ্যেরও হাত বটে।

বিচিত্র পেশার এই জীবনে আসার পিছনে কারণ হিসেবে রাশেদ আহমেদ জানান, 'দাদা এই খেলা দেখিয়েছিলেন। তার কাছ থেকে বাবা শিখেছিলেন। বড় ভাইও এই খেলা দেখান। রাশেদ শিখেছেন বড় ভাইয়ের কাছ থেকে।

'কখনো দুর্ঘটনা ঘটেনি? এমন প্রশ্নের উত্তরে রাশেদ জানান, 'দুর্ঘটনা খেলার অংশ। কয়েকবার আহত হয়েছেন। ভেবেছেন খেলা ছেড়ে দিবেন। কিন্তু পারেননি। নেশার মতো বারবার ফিরে এসেছেন ভয়ঙ্কর এই মৃত্যুকূপ খেলায়।' ঝুঁকিপূর্ণ এই খেলায় নেই পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা। তার উপর মাথায় হেলমেট পরেন না।

এমন ঝুঁকি নেওয়ার ব্যাপারে রাশেদ জানান, 'হেলমেট নয়। এই খেলায় মনোযোগটাই হলো সুরক্ষার একমাত্র রক্ষাকবচ। তাই তিনি সবসময় চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করেন। খেলার প্রতিটি ধাপে শতভাগ মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন।'রাশেদ খেলার জন্য বিয়ে করেননি। বিয়ের চিন্তা কখনো মাথায় আনেননি। মৃত্যুকূপ খেলাটাকেই বেসেছেন ভালো। আর এ খেলাতেই হতে চান আরো পাকাপোক্ত। তাইতো থেমে নেই রাশেদ। প্রচেষ্টার বিকল্প তার কাছে আর কিছু নেই।

বিডি২৪লাইভ/এমকে

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: