প্রজাপতির অসংখ্য রঙের রহস্য

প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০১৫, ০৯:০১ পিএম

প্রজাপতির রংয়ের বিভিন্নতার কারনে সবার মনেই বিভিন্ন প্রশ্ন আসে। এতো সুন্দর রং তাদের মাঝে কোথা থেকে আসে। সৃষ্টিকর্তার কি দারুণ ও চমৎকার সৃষ্টি এই প্রজাপতি। তবে বিজ্ঞানীগণ এই রং ও নকশার এই ভিন্নতার কারন জানার চেষ্টা করেছেন।

এশিয়ার স্থানীয় কাগজ ঘুড়ি প্রজাপতি, যার রং হালকা হলুদ অথবা ক্রিম রং এর হয়। এর বিশদ প্যাটার্নে কালো কালো লাইন ও ছোট ছোট ডট থাকে। কিন্তু, প্রজাপতিটি যখন শুঁয়াপোকার গুটি থেকে রুপান্তরিত হয়, তখন গুটিটির রং চকচকে সোনালি রং এর হয়।

ওরেগন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী বলেছেন, “গুটির রং কেন সোনালি বর্ণের হয়, তা এখনও জানা যায় নি। কিন্তু এর চকচকে ভাবের জন্য প্রজাপতিটির উন্নয়ন হয়”।

তিনি আরও বলেন, “শিকারির হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য এমন রং ধারণ করে এবং একটি জটিল পটভূমিতে একে সনাক্ত করা কঠিন। একটি ক্ষুধার্ত পাখি মনে করে, এটি মনে হয় একটি পানির ফোটা”।

প্রুডিক নোট এ বলা হয়েছে, প্রজাপতির গুটির ছদ্মবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারন, ক্রমবর্ধমান প্রজাপতি এর ভিতর ঠিকভাবে নাড়াচাড়া করতে পারেনা। সবসময় অন্য কারও আহার হবার চিন্তায় বিপদে থাকে। তাই তারা বসা হাঁস।

দৈত্য সোয়ালোটেল আরেকটি গুটি কেমর উদাহরণ। এই গুটিটি গাছের উপরি অংশে থাকে বিধায়, একে গাছেরই একটি অংশ মনে হয়। এটি সুবিধাজনক স্থানে থাকার ফলে, এর সুবিন্যাস ঘটে।
এই প্রজাতির শুঁয়াপোকার দৈহিক আকৃতি অনেকটা ছোট সাপের মত। এটি যখন সম্পূর্ণ ডেভেলপ হয়ে যায়, তখনও এর আকৃতি ছোট সাপের মত থাকে।

রাজকীয় প্রজাপতির গুটি পাতার সাথে মিশে থাকে। যার ফলে এদের শরীরে সোনালি বর্ণের থ্রেড ও বিন্দু গঠিত হয়। পাতার সাথে মিশে থাকার ফলে এদের মৃত্যু ঝুঁকি কম।

পূর্ণবয়স্ক প্রজাপতি তাদের রংয়ের অনেক সুবিধা ভোগ করে। রংয়ের কারনে তারা গিরিগিটীর মত পলায়ন করতে পারে এবং নিজ থেকেই সতর্ক হতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্ক রাজকীয় প্রজাপতির রং উজ্জ্বল কমলা বর্ণের ও স্বাতন্ত্র্যসূচক প্যাটার্ন হয়।এদের দেহে লাল রঙের ডট চিহ্ন বা রেখা থাকে যার দ্বারা বোঝা যায়, এরা অনেক অরুচিকর ও বিষাক্ত হয়ে থাকে।
ভাইসরয় নামক আরেক প্রজাতির গুটি রয়েছে, যারা দূর থেকেই শিকারির আগমন অনুমান করতে পারে।

মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার রেইন ফরেস্ট এ মরফো প্রজাপতি দেখা যায়। এদের গায়ে দুই ধরণের চিত্তাকর্ষক রঙের মিশ্রণ দেখা যায়। এদের রং প্রধানত নীল হয়ে থাকে। নীল রঙের মাধ্যমে পোকামাকড়ের মধ্যে একটি যোগাযোগ সৃষ্টি হয়।

এর ডানার অদ্ভুত নীল রং সকলের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষাকারী। প্রজনন করার সময় প্রজাপতি এদের ডানা মেলে মিনতি করে। এদের গরূৎ এর নিচে বাদামী রঙের সজ্জিত চোখ রয়েছে, যার দরুন কোন শিকারি কাছে এলেই তারা সতর্ক হয়ে যায়।

প্রজাপতির রং প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে মিশে বিভিন্ন রং ধারণ করে। প্রকৃতি এদের গায়ের রং এ অনেক প্রভাব ফেলে।

নীল, বেগুনি, সাদা এগুলো প্রজাপতির গঠনগত রং। কিন্তু হলুদ, কালো ও কমলা রং পিগমেন্ট এর কারনে হয়। আবার আলোর প্রতিফলনের কারনে এদের গায়ের রং প্রভাবিত হয়। তাই, আপনি যখন এদের গায়ের রং বিভিন্ন দিক থেকে দেখবেন তখন এদের রং এর ভিন্নতা আরও বৃদ্ধি পায়।–সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফী।
সম্পাদনা: ফাতেমা তুজ জোহুরা।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: