
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে আবারও সৃষ্টি হলো নতুন রেকর্ড। এবার দানবাক্স থেকে পাওয়া গেছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা, বিপুল স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা। ফলে মসজিদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে সর্বমোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৩ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩৩০ টাকায়।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টায় প্রায় চার মাস ১৮ দিন পর মসজিদের ১৪টি দানবাক্স খোলা হয়। দিনভর গণনার পর পাওয়া যায় ৩২ বস্তা টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা এবং অনলাইনে দান এসেছে আরও ৫ লাখ টাকা।
এর আগে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল দানবাক্স খোলার সময় ২৮ বস্তা থেকে গণনা শেষে পাওয়া যায় ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। তখন মসজিদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল প্রায় ৯১ কোটি টাকা।
শনিবার পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান দানবাক্সগুলো খোলার পর জানান, মসজিদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে আগে থেকেই জমা ছিল প্রায় ৯১ কোটি টাকা।
সেই হিসেবে এবারের দানবাক্স থেকে পাওয়া ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা যুক্ত হওয়ায় মোট জমা দাঁড়িয়েছে ১০৩ কোটি ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৩০ টাকা। এর সঙ্গে অনলাইনে প্রাপ্ত আরও পাঁচ লাখ টাকা যোগ হয়ে সর্বমোট জমা হয়েছে ১০৩ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩৩০ টাকা।
পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান জানান, দানবাক্স থেকে পাওয়া সব টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এ টাকার লভ্যাংশ থেকে অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়।
জেলা শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে প্রতিদিনই দেশ-বিদেশ থেকে নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষ দান করতে আসেন। তাদের বিশ্বাস, এখানে দান করলে মনের আশা পূর্ণ হয়।
এদিকে, মসজিদ পরিচালনা কমিটি একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিকমানের ইসলামিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর