
যুবলীগ নেতা মোছলেহ উদ্দিন সুমনের জ্বালা-যন্ত্রণায় বাড়িঘরে থাকতে পারি না। মারধরের মামলায় ৩ আসামিকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। পুলিশ আসামি নেওয়ার পর আমার ভাই-বোনকে অন্যান্য অভিযুক্তরা মারধর করেছে। মামলা উঠিয়ে না নিলে সুমন আমাদের বাড়িঘরে থাকতে দেবে না, রাস্তাঘাটেও উঠতে দেবে না, গুলি করে মেরে ফেলবে এবং গুম করবে বলে হুমকি দেয়।
রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের তোরাবগঞ্জ গ্রামের ট্রাক্টরট্রলি চালক মো. লিটন এসব কথা বলেন। তিনি তোরাবগঞ্জ গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে।
অভিযুক্ত সুমন সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও একই ইউনিয়নের চরউভূতি গ্রামের মৃত ছিদ্দিক উল্যাহর ছেলে।
মামলা সূত্র জানায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ১২ জুলাই যুবলীগ নেতা সুমনসহ তার লোকজন তোরাবগঞ্জ লিটনের বাবা আলমগীর হোসেন, ভাই মো. আনোয়ার ও জহিরের ওপর হামলা করে। এসময় লোহার রডের আঘাতে আনোয়ারের ঠোট ফেটে যায়। এছাড়া জহিরের মাথায় রডের আঘাতে গুরুতর জখম লাগে। এ ঘটনায় ১৫ জুলাই লিটনের বোন তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী অঞ্চল কমলনগর আদালতে সুমনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কমলনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এফআইআর দাখিলের নির্দেশ দেয়। পরে পুলিশ ওই মামলায় অভিযুক্ত মো. মামুন, মো. হেনজু ও মো. খোকন নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।
মামলায় অপর অভিযুক্তরা হলেন যুবলীগ নেতা সুমনের ভাই মো. নোমান, আব্দুল খালেক, স্বজন মো. হানিফ, মো. সুজন, মো. হারুন ও আবুল কালাম।
মো. লিটন বলেন, মামলা করার পর থেকেই সুমন আমাদের বাড়িঘরে থাকতে দেবে না বলে হুমকি দিয়ে আসছে। আমরা তার জ্বালাযন্ত্রণায় বাড়িঘরে থাকতে পারছি না। তার হুমকি-ধমকির ঘটনায় গত ২২ আগস্ট কমলনগর থানায় একটি জিডি করেছি।
যুবলীগ নেতা মোসলেহ উদ্দিন সুমন বলেন, আমার ভাগনির শিশু ছেলের সঙ্গে লিটনের ভাগিনাকে পানিতে ফেলা দেওয়া নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি। এরপর লিটনরা আমরা ভাগনি জামাইকে মারধর করে। পরে দু’পক্ষেই মারধরের লিপ্ত হয়। তবে ঘটনায় আমি কিংবা আমার ভাইয়েরা কেউ জড়িত নয়। দু’পক্ষেই আমার লোক, এজন্য বসে মীমাংসা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তারা আমাদের নামে মামলা করেছে।
কমলনগর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিমেল চাকমা বলেন, কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। জিডির ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে।
বাঁধন/সিইচা/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর