• ঢাকা
  • ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ০৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:১১ দুপুর

ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নজরে ৫ দেশ

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ গড়ে উঠছে তার পররাষ্ট্রনীতির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঘিরে। একটি নাটকীয় রাতের অভিযানে কারাকাসের শক্তিশালী সুরক্ষিত কম্পাউন্ড থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে আটক করে তিনি ভেনেজুয়েলাকে নিয়ে হুমকি বাস্তবায়ন করেছেন।

অভিযানটি বর্ণনা করতে গিয়ে ট্রাম্প তুলে ধরেন ১৮২৩ সালের মনরো ডকট্রিন এবং পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন আধিপত্যের প্রতিশ্রুতি—যেটিকে তিনি নতুন করে নাম দেন ‘ডনরো ডকট্রিন’। গত কয়েক দিনে ওয়াশিংটনের প্রভাব বলয়ের অন্যান্য দেশকে নিয়ে তিনি যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, তার কিছু এখানে তুলে ধরা হলো। 

ইরান

নজিরবিহীন মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত রোববার থেকে ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে শুরু হয়েছে তুমুল বিক্ষোভ। আর এই বিক্ষোভে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬ জন এবং আহত হয়েছেন ১৭ জন। এই পরিস্থিতিতে ইরান সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় এবং সহিংসভাবে হত্যা করে— তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যাবে।’ 

এছাড়ও রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছি। যদি তারা অতীতের মতো মানুষ হত্যা শুরু করে, আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্র তাদের কঠোরভাবে আঘাত করবে’।

তাত্ত্বিকভাবে ইরান ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর আওতার বাইরে পড়ে, তবে গত বছর এর পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার পর ট্রাম্প ইরানি শাসকদের বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। সেই হামলা হয়েছিল ইসরায়েলের বৃহৎ অভিযানের পর, যা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্যে চালানো হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে গড়ায়।

গত সপ্তাহে মার-এ-লাগোতে ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকে ইরান ছিল আলোচনার শীর্ষে।

মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ২০২৬ সালে ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন হামলার সম্ভাবনা উত্থাপন করেছেন। ইরান ছাড়াও লেবানন এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের সঙ্গে ‘যুগপৎ’ যুদ্ধের জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল সরকার।

কিউবা

ফ্লোরিডার মাত্র ৯০ মাইল (১৪৫ কিলোমিটার) দক্ষিণে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্রটি ১৯৬০-এর দশকের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। এটি নিকোলাস মাদুরোর ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র।

রোববার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই, কারণ কিউবা ‘পতনের মুখে’।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে না, দেখে মনে হচ্ছে এটি ভেঙে পড়ছে। আমি জানি না তারা টিকে থাকবে কি না, তবে এখন কিউবার কোনো আয় নেই’। 

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, কিউবা সব আয় পেত ভেনেজুয়েলা থেকে, ভেনেজুয়েলার তেল থেকে’।

প্রসঙ্গত, ভেনেজুয়েলা প্রায় ৩০ শতাংশ তেল কিউবায় সরবরাহ করে বলে জানা যায়, মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই সরবরাহে ভাটা পড়তে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও—যিনি কিউবান অভিবাসীদের সন্তান—দীর্ঘদিন ধরে কিউবায় শাসন পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

শনিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যদি আমি হাভানায় থাকতাম এবং সরকারের অংশ হতাম, আমি অন্তত কিছুটা উদ্বিগ্ন হতাম। যখন প্রেসিডেন্ট কথা বলেন, আপনাকে তা গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।’ অথাৎ শিগগিরই কিউবায় সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

কলম্বিয়া

ভেনেজুয়েলায় অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্ক করে তার ‘নিজের দিকে খেয়াল’ রাখতে বলেছেন।

ভেনেজুয়েলার পশ্চিম প্রতিবেশী কলম্বিয়া উল্লেখযোগ্য তেল মজুদের পাশাপাশি সোনা, রূপা, পান্না, প্লাটিনাম ও কয়লার বড় উৎপাদক। এটি ওই অঞ্চলের মাদক ব্যবসার একটি প্রধান কেন্দ্র—বিশেষত কোকেনের ক্ষেত্রে।

সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে নৌকা লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে—যদিও প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছে যে সেগুলো মাদক বহন করছিল—এর পর থেকেই ট্রাম্প দেশটির বামপন্থি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তীব্র বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন।

অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র পেত্রোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, অভিযোগ করে যে তিনি কার্টেলগুলোকে ‘বাড়তে’ দিচ্ছেন।

গত রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, ‘কলম্বিয়া এক অসুস্থ মানুষের (গুস্তাভো পেত্রো) হাতে চলছে, যে কোকেন বানাতে ও তা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করে’। তবে সে খুব বেশি দিন এটা করতে পারবে না," তিনি বলেন।

কলম্বিয়াকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অভিযান চালাবে কি না—এ প্রশ্নে ট্রাম্পের জবাব ছিল, ‘আমার কাছে ভালোই শোনাচ্ছে’।

ঐতিহাসিকভাবে কলম্বিয়া মাদকবিরোধী যুদ্ধে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র, যা কার্টেল মোকাবিলায় প্রতি বছর শত শত মিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে।

মেক্সিকো

২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার সময় ট্রাম্পের প্রচারণার মূল স্লোগান ছিল মেক্সিকো সীমান্তে ‘দেয়াল নির্মাণ’। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্টের অফিসে ফেরার প্রথম দিনেই তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ করার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।

তিনি প্রায়ই দাবি করেছেন, মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রে মাদক বা অবৈধ অভিবাসী প্রবাহ ঠেকাতে যথেষ্ট করছে না।

রোববার তিনি বলেন, মেক্সিকো দিয়ে মাদক ‘উপচে পড়ছে’ এবং ‘আমাদের কিছু করতে হবে, সেখানকার কার্টেলগুলো খুব শক্তিশালী’।

এদিকে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাম প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।

গ্রিনল্যান্ড

ভেনেজুয়েলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর এবার গ্রিনল্যান্ডের দিকে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে গ্রিনল্যান্ডে—পিটুফিক স্পেস বেস। কিন্তু ট্রাম্প চান পুরো দ্বীপরাষ্ট্রটি।

অঞ্চলটি ‘রুশ ও চীনা জাহাজে ভরে গেছে’ দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার।  

ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষা হবে । কারণ দ্বীপটির অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সেখানে রয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও খনিজ সম্পদের কথা উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেও বারবার দ্বীপটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে তাকে গ্রিনল্যান্ড দখল করার বিষয়ে হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে বলেছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

ডেনমার্কের অংশ ও বিশালাকৃতির এই আর্কটিক দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বে প্রায় দু হাজার মাইল (৩,২০০ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত। দ্বীপরাষ্ট্রটি বিরল খনিজে সমৃদ্ধ, যা স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রিনল্যান্ড উত্তর আটলান্টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানও দখল করে আছে, যা ক্রমবর্ধমানভাবে আর্কটিক সার্কেলে প্রবেশাধিকার দেয়। আগামী বছরগুলোতে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে থাকায় নতুন নৌপথ খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ‘কল্পনা’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, ‘আর কোনো চাপ নয়। আর কোনো ইঙ্গিত নয়। সংযুক্তির কল্পনা নয়। আমরা আলোচনায় উন্মুক্ত। আমরা সংলাপে উন্মুক্ত। তবে এটি সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান জানিয়ে হতে হবে’।

প্রসঙ্গত, ডেনমার্কের অধিভুক্ত গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষের বসবাস। ১৯৭৯ সাল থেকে সেখানে স্বায়ত্তশাসন থাকলেও সেখানকার প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনও ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে। দেশটির অধিকাংশ নাগরিক ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চাইলেও জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে প্রবল বিরোধিতা রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

মাসুম/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]