সুনামগঞ্জ-৩ (শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন আহমেদ সুনামগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো অভিযোগপত্রে তিনি পক্ষপাতিত্ব, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ইচ্ছাকৃত অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
হোসাইন আহমেদ অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শতকরা ১ ভাগ ভোটারের সমর্থন যাচাইয়ে অসঙ্গতির অভিযোগে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তিনি বাতিল আদেশের সার্টিফাইড কপি চেয়েছিলেন, কিন্তু আদেশে শুধু অসঙ্গতিপূর্ণ ক্রমিক নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে; ভোটারের নাম, ঠিকানা, ভোটার নম্বর বা যাচাই রিপোর্টের তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। এতে তিনি আপিলে আইনগত যুক্তি উপস্থাপন করতে পারছেন না।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেনের মনোনয়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি। শতকরা ১ ভাগ ভোটার সমর্থন তালিকা, যাচাই রিপোর্ট বা বিস্তারিত তথ্য চেয়ে আবেদন করলেও তা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া, চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে বাতিলকৃত প্রার্থীদের জন্য দৈবচয়ন পদ্ধতি স্পষ্টভাবে প্রয়োগ করা হলেও, বৈধ ঘোষিত প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি প্রয়োগের কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি।
অভিযোগে হোসাইন আহমেদ উল্লেখ করেছেন, আপিলের সময়সীমা অত্যন্ত সীমিত (৫ থেকে ৯ জানুয়ারি) করার মাধ্যমে তার আপিল প্রস্তুতি বিলম্বিত হয়েছে, যা ইচ্ছাকৃত ষড়যন্ত্র এবং বড় ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ। তিনি দাবি করেছেন, বাতিল আদেশের বিস্তারিত যাচাই রিপোর্ট, ভোটার তথ্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর যাচাই তথ্য অবিলম্বে প্রদান করা হোক। এছাড়া, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির মাধ্যমে পূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট জাতীয়ভাবে গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী হোসাইন আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন এবং আগামী বৃহস্পতিবার তার মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলে এটি দাখিল করবেন। তিনি আশা করেন, নির্বাচন কমিশন তাকে সহযোগিতা করবে এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে।
সুনামগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া অভিযোগ প্রসঙ্গে জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থনকারী ভোটারদের মধ্যে কমপক্ষে ১০ জনের স্বাক্ষর যাচাই করতে গিয়ে ৭-৮ জন ভোটার স্বাক্ষর দেননি। এ কারণেই হোসাইন আহমেদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে এবং এটি কোনো ইচ্ছাকৃত অসহযোগিতা নয়।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর