লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠকের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহাদাত হোসেন সুমাকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে উপজেলার সিন্দুর্নায় আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আমজাদ হোসেন তাজুর বাসায় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ওসির গোপন বৈঠকের অভিযোগ ওঠে। তবে আমজাদ হোসেন তাজুর পরিবার ও পুলিশ কর্মকর্তার দাবি সেটি কোনো বৈঠক ছিল না, বরং একটি দাওয়াত অনুষ্ঠান ছিল।
জানা গেছে, আমজাদ হোসেন তাজু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন। তিনি একাধিক মামলার আসামি এবং বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে তার বাসায় দাওয়াতের নামে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে গোপন বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্তত ৬ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন, যেখানে যোগ দেন ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। বৈঠক শেষে তিনি নৈশভোজেও অংশ নেন।
সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে হাতীবান্ধার বাসিন্দা কিন্তু জেলার বাইরে কর্মরত একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।
তবে শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ দাবি করেন, তিনি ওই আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় যাননি।
আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেন তাজুর স্ত্রী শাপলা আক্তার জানান, কোনো রাজনৈতিক বৈঠক নয়, বাসায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান ছিল এবং সেই দাওয়াতে ওসি এসেছিলেন।
লালমনিরহাটের সহকারী পুলিশ সুপার জয়ন্ত কুমার সেন বলেন, ওই বাসায় পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে দেখা করতেই ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ সেখানে যান।
লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় ওসির বৈঠকের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর