দীর্ঘদিনের আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে থাকা শরিক দলগুলোর জন্য যেসব আসনে সমঝোতা হয়েছে, সেসব আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে থাকায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে দলটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করেছে বিএনপি। এ অবস্থায় বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করা নেতাদের পর্যায়ক্রমে গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডেকে কথা বলা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ একে একরামুজ্জামান। পরে এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ভিডিও বার্তায় একরামুজ্জামান বলেন, ২০০৪ সাল থেকে দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সম্মান ও তারেক রহমানের নির্দেশনায় তিনি আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। একরামুজ্জামান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি নবম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হলেও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুর্শিদা খাতুন (মুর্শিদা জামান পপি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। তিনি জেলা বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী। বৃহস্পতিবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনটি বিএনপি ছেড়ে দিয়েছে মিত্র দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির জন্য। এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য এমএ খালেক স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ৩০ ডিসেম্বর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে বুধবার সন্ধ্যায় তিনি গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সাক্ষাতের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে দলটির ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দলের সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। তাকেও শুক্রবার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে তারেক রহমান কথা বলেছেন বলে দলীয় একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মাদারীপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে সৃষ্ট জাতীয় শোক এবং তারেক রহমানের প্রতি রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
এদিকে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরীও তার মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য। ফেসবুকে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, গুলশানে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে দল ও দেশের স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানানো হলে তিনি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেন। ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করছেন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর