ভারত থেকে আসা একটি ট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ইলিশ মাছ আটক করেছে বেনাপোল বন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। অবৈধভাবে আমদানি ও শুল্কফাঁকির উদ্দেশ্যে ৫৩ কার্টনে ৫ হাজার ৯৪৩ কেজি ইলিশ মাছ আনা হয়েছিল।
বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস সদস্যরা ট্রাকটি তল্লাশি করে ইলিশের এই চালানটি আটক করেন।
কাস্টমস সূত্র জানায়, জান্নাত এন্টারপ্রাইজ মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বৈধ পথে ইলিশ আমদানির চেষ্টা করে। এ চালানের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ছিল আরজে এন্টারন্যাশনাল। তবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বন্দর থেকে মাছ পাচারের অভিযোগ রয়েছে বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী শান্তর মালিকানাধীন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লিংক এন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে।
বেনাপোল কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্র পাল বুধবার দুপুরে জানান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ইলিশ মাছ আমদানি করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টার গোপন তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে আনা ৫৩ কার্টন ইলিশ উদ্ধার করা হয়। আটককৃত মাছ কাস্টমস বিধি অনুযায়ী নিলামে বিক্রি করা হবে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, ঘোষণাপত্রে ‘সুইট ফিস’ হিসেবে বোয়াল, ফলি ও বাঘাইর মাছের উল্লেখ থাকলেও পরীক্ষা করে দেখা যায় ২২৫ প্যাকেজের মধ্যে ৫৩ প্যাকেজে রয়েছে ভারতীয় ইলিশ। জব্দ ইলিশের বাজারমূল্য আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা। ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার স্পষ্ট অমিল থাকায় পুরো চালানটি তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের শুল্কফাঁকির কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চিহ্নিত শুল্কফাঁকিবাজদের তালিকায় আলোচিত সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী শান্তের নাম রয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, ‘ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার মধ্যে বিশাল অমিল পাওয়া গেছে, যা শুল্ক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর