ফুলবাড়িয়া উপজেলার ধামর গ্রামে বহুবিবাহে সম্পৃক্ত এক মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বয়োবৃদ্ধ মাতা রহিমা খাতুন। নেশাখোর ছেলের অপকর্ম ও প্রত্যেহ অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে অসহায় ওই মা বাদী হয়ে গত ২ মার্চ ময়মনসিংহ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মোকদ্দমা নং- ৪১৩/২৫ইং। মামলার এজাহার সুত্রে জানাগেছে,মাদকাসক্ত ইব্রাহিম খলিল (৪২) প্রায়ই মাদকের টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের চাপ দেন। তার কথামতো টাকা না দিতে না পারলে মা-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর নেমে আসে অমানসিক নির্যাতনের খড়গ। সেইসাথে ঘর বাড়িতেও ভাঙচুরের তান্ডব চালান তিনি।
স্থানীয়রা জানান,অভিযুক্ত ইব্রাহিম খলিল একে একে ৩ টি বিয়ে করেছেন।তিনি তার দুই তরফের সন্তানদেরকেও ভরনপোষণ ও দেখভাল করেননা। টাকার জন্য গর্ভধারিণী মাকে নির্যাতন করেন। তার এসব বেপরোয়া কাজের প্রতিবাদ করায় ভাই ও বোনের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
পিতার বিভিন্ন অপকর্ম তুলে ধরে কান্নায়ে ভেঙ্গে পড়ে ইব্রাহিম খলিলের মেয়ে সাকিবা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, আমার বাবা ক’দিন পরপর বিয়ে করে, সে একটা বিয়ে পাগল ব্যক্তি। আমার মাকে মেরে বাড়ি থেকে তারিয়ে দিছে। বাবা আমাদের কোন খোঁজ খবর নেয়না, খাবার দাবার দেয়না। ছোট চাচা আমাদের খাবার দাবার দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতেছেন। বাবা নামের এ পাষান্ড আমার বড়ভাই, চাচা ও ফুফুর নামেও মামলা করেছে। আমরা তার অত্যাচার থেকে মুক্তি ও ভালোভাবে বাঁচতে চাই। আর সে যেনো ফুফু ও চাচাকে অযথা হয়রানি না করে সেই দাবি জানাচ্ছি।
ইব্রাহিম খলিলের বোন আবিদা সুলতানা জানান, আপন সহোদর ভাইয়ের অত্যাচারে আমাদের মানবেতর জীবন কাটছে। তার কথা মতো টাকা না দেওয়ায় এর আগেও ৩ টা মিথ্যা মামলা করে। পরে আদালত তা খারিজ করে দেন। আমি তার তাছে ৫ লাখ টাকা পাই, সেই টাকা পরিশোধ না করে আবারও টাকা চাচ্ছে। সম্প্রতি নিজের ঘরে নিজেই আগুন দিয়ে আমাদেরকে আসামি করে কোর্টে মামলা করেছেন। আমরা তার হয়রানি মূলক অত্যাচার থেকে নিষ্পত্তি ও স্বাভাবিক জীবন নিয়ে একটু শান্তিতে বাঁচতে চাই।
এবিষয়ে অভিযুক্ত ইব্রাহিম খলিল বলেন, আমাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য ছোট ভাই ও বোন মিলে ছেলে মেয়েকে আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিছে। আমাদের মূল বিরোধ জমি নিয়ে। ওরা ষড়যন্ত্র করে আমার থাকার ঘরে আগুন দিয়েছে,তাই মামলা করেছি। তবে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলার অন্যতম স্বাক্ষী ইউসুফ বলেন, আমি কাউকে আগুন দিতে দেখি নাই। আগুনের দৃশ্য দেখে মনে হয় না যে অন্য কেউ আগুন লাগিয়েছে। আমি না করেছি তারপরেও আমাকে স্বাক্ষী দিয়েছে।
ভুক্তভোগী মা রহিমা খাতুন জানান, নেশার টাকা ফুরিয়ে গেলেই তার ছেলে তাকে টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। অন্যথায় মা সহ পরিবারের সদস্যদেরকে মারধর করেন। তার অত্যাচারে পরিবার ও প্রতিবেশীরাও দিশেহারা। তার অপকর্ম ও অমানবিক কর্মকান্ডে নাতি নাতনিরাও কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। ছেলের এহেন অত্যাচার থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়ে রহিমা খাতুন আরও জানান,আমাকে মারধর করার সময় ছোট ছেলে রবিউল আওয়াল ও মেয়ে আবিদা সুলতানা ফেরাতে যাওয়ায় নিজে ঘরে আগুন লাগিয়ে তাদের ও প্রতিবেশীদের আসামি করে মিথ্যা মামলা করেছে। তার হেনস্তা থেকে আমি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বাঁচাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল কাদের বলেন,ওই ছেলেটা খুবই দুষ্ট প্রকৃতির। সে একটি হত্যা মামলারও আসামী। একাধিক বিয়ে করেছে,ভালো মানুষ হলে ভাইয়ের বিরুদ্ধে এরকম অহেতুক মিথ্যা মামলা করতে পারতোনা। নিজের বউকে ঘরে রেখে নিজেই আগুন ধরিয়েছে। আমরা ওই ছেলের বিষয়ে অনেকবার সালিশ করেছি, কোন সমাধান করতে পারিনি।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়িয়া থানার ওসি সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন,এবিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি,অভিযোগ দায়ের করলে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর