রাজধানীসহ সারা দেশজুড়ে জ্ঞান ও বিদ্যার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক জগন্নাথ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৪ বিভাগ-ইনস্টিউটের ৭৬ মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারের আরাধনা। এছাড়া মেয়েদের পাঁচটি হলে আয়োজন করা হয়েছে পূজার।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হওয়া পূজার আনুষ্ঠানিকতা, পরে বেলা ১১টায় শুরু হয় অঞ্জলি, যা চলে ১টা পর্যন্ত। পুরো হল প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতে আগত পুণ্যার্থীরা। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে জলপাই গাছের ছোট ডাল, সাংস্কৃতি সংগঠনের ভবনে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ভাঙা হারমোনিয়াম, চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি জানিয়ে চা সংগ্রহের পাত্র ও একতারা রাখা হয়েছে।
আয়োজকদের একজন সৌভিক রোহিত বলেন, ‘বাংলাদেশের সব ধরনের মব কালচার, পত্রিকা অফিসে হামলা, এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিংসহ (বিচার বহির্ভূত হত্যা) সব অন্যায় ও মব হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা এই মণ্ডপটি তৈরি করেছি।’
আরেক শিক্ষার্থী শ্রাবস্তী বন্দ্যোপাধ্যায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের পূজার থিম সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা শুধু থেমে থাকা কলম কিংবা পোড়া সংবাদপত্রের কথা বলিনি। কথা বলতে চেয়েছি সমস্ত নিপীড়নের বিরুদ্ধে। অস্পৃশ্য হরিজন থেকে রক্ত জল করে জীবনের শেষ জীবনীশক্তি নিংড়ে দেওয়া চা শ্রমিক, যিনি যোগ্য মজুরিটুকু পায় না কিংবা প্যালেস্টাইলে ভাঙা ধ্বংসস্তুপে পড়ে থাকা নিষ্পাপ শিশুর লাশ। সবকিছুকে ঘিরে একটা বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। যুদ্ধ না, শান্তি। মব নয়, সুবিচার।’
এবার জগন্নাথ হলের উপাসনালয়ে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে থাকছে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এবং রক্তদান কর্মসূচি। এছাড়াও, হলের ভেতরে দুই দিনব্যাপী দর্শনার্থী শিশু-কিশোরদের চিত্তবিনোদন উপযোগী বেশকিছু রাইড, খেলনা ও খাবার দোকানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এবারের পূজায়। আগামীকাল (শনিবার) মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।
এবার জগন্নাথ হলের উপাসনালয়ে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে থাকছে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এবং রক্তদান কর্মসূচি। এছাড়াও, হলের ভেতরে দুই দিনব্যাপী দর্শনার্থী শিশু-কিশোরদের চিত্তবিনোদন উপযোগী বেশকিছু রাইড, খেলনা ও খাবার দোকানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এবারের পূজায়।
হলের প্রাধ্যক্ষ ও পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক দেবাশীষ পাল বলেন, ‘আমরা এবার সময় স্বল্পতার কারণে সংবাদ সম্মেলন করতে পারিনি। তবে প্রেসরিলিজ ও বড় বিলবোর্ডের মাধ্যমে সব নির্দেশনা জানানো হয়েছে।’
পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক দেবাশীষ পালের সই করা বিবৃতিতে জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন ও শিক্ষা), কোষাধ্যক্ষ ও প্রক্টরবৃন্দের সার্বক্ষণিক ও কার্যকর তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে জগন্নাথ হল প্রশাসন হল উপাসনালয় তথা কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ থেকে শুরু করে সমগ্র হল প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে চলেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় লোকবল ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আমাদের পাশে রয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এন এস আই), শাহবাগ থানা ও ফায়ার সার্ভিস।
তিনি জানান, সমগ্র জগন্নাথ হল সিসি ক্যামেরার আওতাধীন থাকবে; প্রবেশমুখে মেটাল ডিটেক্টরসহ অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার থাকবে; ছোট শিশুদের দুগ্ধ সেবনের জন্য বিশেষ নিরাপদ একটি কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। কোনো ধরনের পটকা বা আতশবাজির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও, যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ স্টিকার সরবরাহ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর বিদ্যা ও সংগীতের দেবী সরস্বতীর কৃপা লাভের আশায় ৭২টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল। এবার সেই সংখ্যা বেড়েছে দাঁড়িয়েছে ৭৪টিতে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, ভগবানের জ্ঞান ও বিদ্যার রূপ হলেন দেবী সরস্বতী। প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের শ্রী পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যাদেবীর পূজা হয়। হাতে বীণা থাকে বলে সরস্বতীকে বীণাপাণিও বলা হয়। শাস্ত্রে দেখা যায়, চতুর্ভুজা ব্রহ্মার মুখ থেকে আবির্ভূতা শুভ্রবর্ণা বীণাধারিণী চন্দ্রের শোভাযুক্তা দেবীই হলেন সরস্বতী। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও শাস্ত্র মতে, এই দিনটিতে দেবী সরস্বতী জন্মগ্রহণ করেছিলেন। দিনটিকে বলা হয় ‘বসন্ত পঞ্চমী’।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর