ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহের ভালুকায় নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় বিএনপি মনোনিত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুসহ ১৫ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ভালুকা মডেল থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দুটিতে ১৯১ জনের নাম উল্লেখ এবং ১৪ শতজনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়।
গতকাল বুধবার (২৮ জানিয়ারি) রাতে আতিকুল ইসলাম ও আমান উল্যাহ বাদি হয়ে মামলা দুটি (নম্বর-৩৩ ও ৩৪) দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৫ জানুয়ারী) বিকেলে উপজেলার বাটাজোড় এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের হরিণ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করলে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী ফখর উদ্দিন বাচ্চুর হুকুমে তার কর্মী-সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা প্রদান করে অতর্কিত হামলা করে ৬-৭ জন কর্মীকে আহত করে এবং তিনটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। এরপর সন্ধ্যার দিকে সিডস্টোর বাজার যুবদল নেতা শামীম আহমেদের কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর করে তিনজন কর্মীকে আহত এবং ৭-৮টি মোটরসাইলে অগ্নিসংযোগ করে।
এর আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমসহ ২১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৯ শতজনের নামে দুইটি মামলা হয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবার (২৬ ও ২৭ জানুয়ারী) রাতে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রুহুল আমীন মাসুদ ও রফিক উদ্দিন রফিক বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় দুটি মামলা (নম্বর-৩১ ও ৩২) দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। গত রোববার (২৫ জানুয়ারী) পৌর সদর, কানার মার্কেট, বাটাজোর বাজার ও হবিরবাড়ি এলাকায় কয়েক দফা হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওইসব হামলার ঘটনায় উভয়পক্ষের মিলে অন্তত ৩০ জন নেতা কর্মী আহত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষই ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।
ভালুকা মডেল থানার অফিসর ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টি ৪টি মামলা রুজু করা হয়েছে। বিএনপির দলীয় প্রার্থীর পক্ষের দায়েরকৃত মামলার নাজিম মেম্বার নামে একজন আসামীকে নিজেরাই আটক করে থানায় সোপার্দ করে। ওই আসামী বর্তমানে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর