সম্প্রতি ভারতের প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য উইক-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ছাত্রনেতা মাহফুজ আলম বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী একে অপরের পরিপূরক রাজনৈতিক শক্তি। একে অপরের অস্তিত্বের ওপরই এ দুটি দলের রাজনীতি টিকে আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে মাহফুজ আলম বলেন, “জামায়াত এবং আওয়ামী লীগ হলো একে অপরের অল্টার ইগো। অর্থাৎ, আওয়ামী লীগ থাকলে জামায়াত থাকবে, আর জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগ থাকবে।” তিনি এই ধরনের আদর্শিক দ্বিমেরু রাজনীতিকে বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর বলেও উল্লেখ করেন।
২৭ বছর বয়সী এই ছাত্রনেতা সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ, নির্বাচনে অংশ না নেওয়া এবং কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ না দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, এই মুহূর্তে তিনি কোনো দলে যোগ দিচ্ছেন না এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করারও পরিকল্পনা নেই।
মাহফুজ আলম বলেন, “আমি মনে করি, এটি সঠিক সময় নয়। বিশেষ করে এনসিপি-জামায়াত জোটের কারণে আমি এনসিপিতে যোগ দিচ্ছি না। এটি আমার একটি পরিষ্কার অবস্থান।” তিনি আরও বলেন, জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শ বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জামায়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা তাদের বর্তমান অবস্থায় চাই না। তারা নিজেদের পরিবর্তন করতে পারে, এরপর বাংলাদেশের মানুষের কাছে আসতে পারে।”
এনসিপিতে যোগ না দেওয়ার বিষয়ে দ্য উইক-এর এক প্রশ্নের জবাবে মাহফুজ আলম বলেন, এনসিপি-জামায়াত জোট গঠনের বিষয়টি কোনো ধরনের স্বচ্ছ ও সঠিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে হয়নি। এমনকি দলের ভেতরেও অনেক নেতা এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না।
তিনি বলেন, “এক সন্ধ্যায় এনসিপির অনেক নেতাই জানতেন না যে এমন একটি জোট হতে যাচ্ছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করা হয়নি।”
মাহফুজ আলমের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় জোট ও আদর্শিক রাজনীতি নিয়ে তার মন্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
অন্যান্য... এর সর্বশেষ খবর