আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের শরিকদের জন্য সাতটি আসন ছেড়ে দিলেও কারিগরি জটিলতার কারণে ওই আসনগুলোতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদেরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে ব্যালট পেপার থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক প্রত্যাহারের আবেদন জানালেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) তা নাকচ করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এক চিঠিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম মিয়া পরওয়ারকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
চিঠিতে জামায়াত জানায়, ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমঝোতার ভিত্তিতে নরসিংদী-২ ও চট্টগ্রাম-৮ আসন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দুই আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে না পারায় ব্যালট পেপারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
এ ছাড়া পৃথক আরেক চিঠিতে দলটি জানায়, ভোলা-২, নরসিংদী-৩, নারায়ণগঞ্জ-৩, সুনামগঞ্জ-১ ও চট্টগ্রাম-১২—এই পাঁচটি আসন যথাক্রমে এলডিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম) ও নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হলেও সময়মতো মনোনয়ন প্রত্যাহার না হওয়ায় ওই আসনগুলোতেও প্রতীক প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়।
জামায়াতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন জানায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিতভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা জানানো না হলে মনোনয়ন বা প্রতীক প্রত্যাহারের সুযোগ নেই।
এ কারণে ব্যালট পেপার থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে কমিশন স্পষ্ট করে জানায়। ফলে যেসব আসন জোটের শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেসব আসনেও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এ অবস্থায় প্রতীক প্রত্যাহারের সুযোগ না থাকার বিষয়টি আপনার অবগতির জন্য জানানো হলো।
ইসির এই সিদ্ধান্তের ফলে জোটকে ছেড়ে দেওয়া প্রার্থীর সঙ্গেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে জামায়াতের প্রার্থীরা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর