তীব্র শীত উপেক্ষা করে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা সকাল থেকেই ফসলের মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন অধিক লাভের আশায়। তারা এখন আলুর ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই মৌসুমে উপজেলার কাকচিরা ইউনিয়নের জালিয়াঘাটা, শিংড়াবুনিয়া, রূপদোন, ও ক’পদোন এলাকায় আশানুরূপ আলুর চাষ হয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় আলু চাষে ৫৬৫ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও, ৫৫৫ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা আলু ক্ষেতে পানি, কীটনাশক, সার প্রয়োগ এবং আগাছা পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোনো কৃষকই ঘরে বসে নেই; প্রতিদিন সকাল হলেই তারা ক্ষেতের বিভিন্ন পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত থাকেন। এই অঞ্চলে আলু চাষে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় তাদের আগ্রহ বাড়ছে। তাই চলতি মৌসুমে চাষিরা ব্যাপক হারে আলুর চাষ করেছেন। জানা যায়, এ অঞ্চলের কৃষকরা প্রতি বছরই আগাম আলু চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলার কাকচিরা ইউনিয়নের রুপদোন এলাকার পরিতোষ মিত্র জানান, এ বছর তিনি ৩ একর জমিতে আলুর চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং আলুর ফলন ও ভালো দাম পেলে তিনি লাভবান হবেন বলে আশাবাদী। তিনি আরও জানান, আলু চাষে সরকারের সু-দৃষ্টি বা একটু সুযোগ তৈরি করে দিলে আলু চাষিদের কখনও লোকসানে পড়তে হয় না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিপন চন্দ্র ঘোষ জানান, এই এলাকার মাটি আলু চাষের উপযোগী। প্রতি বছর অনেক কৃষক আলুর আবাদ করে থাকেন। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরামর্শ এবং সার্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে, পাথরঘাটা উপজেলায় কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় আলু উত্তোলন করে কৃষকরা বিপাকে পড়েন। এর ফলে আলুর ভালো দাম না পেয়ে অনেকেই লোকসানে পড়েন। এ কারণে অনেক কৃষকই আলুর আবাদে অনিহা প্রকাশ করেন। তবে, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রতিনিয়ত আলু চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর