কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে পাহাড়ি দুষ্কৃতকারীদের হাতে অপহৃত ছয়জন কৃষক মুক্তিপণের বিনিময়ে ফিরে এসেছেন। পরিবারের দাবি, অপহরণকারীরা মোট সাত লাখ টাকা আদায়ের পর তাদের ছেড়ে দেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হোয়াইক্যং ও বাহারছড়া সীমান্তঘেঁষা তলাজুরি পাহাড়ি ছড়ার একটি এলাকা থেকে অপহৃতদের মুক্ত করে দেওয়া হয়। পাহাড়ি পথ চিনতে পারায় তারা সেখান থেকে হেঁটে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে সক্ষম হন।
মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনা বাজার এলাকার সোলতান ফকিরের ছেলে মো. জমির (৬২), এজাহার হোছনের ছেলে মো. আলম (১৮), শামশুল আলমের ছেলে জাহেদ হোছন ওরফে মুন্না (৩০), রবিউল আলমের ছেলে মো. শফিউল আলম (১৩), কম্বোনিয়া পাড়ার আশ্রয়কেন্দ্র এলাকার মোজাহার মিয়া (৫০) এবং তার ছেলে মোস্তাক (১২)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল বলেন, বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া পাহাড়ি নির্জন এলাকায় অপহৃতদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা নেওয়া হয়। পরে তলাজুরি পাহাড়ি ছড়ার কাছে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ফিরে আসা ব্যক্তিরা অপহরণকারীদের মধ্যে চারজনকে স্থানীয় হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তাদের মধ্যে তিনজন বাহারছড়ার বাসিন্দা এবং একজন উপজাতি সম্প্রদায়ের বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে স্বজনেরা জানান, অপহরণকারীদের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পাহাড়ি স্থানে টাকা রেখে আসার পরই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি মিনা বাজার এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রের পশ্চিম পাশের পাহাড়ি জমিতে কৃষিকাজ করার সময় অস্ত্রের মুখে ছয়জনকে তুলে নিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা। পরে তাদের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণের ঘটনা বাড়ায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মুক্তিপণ দিয়ে স্বজনেরা ফিরে এলেও নিরাপত্তাহীনতা কাটছে না বলে অভিযোগ তাদের। অপহরণকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর