বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা নারীদের অবমাননা করে, মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, তারা কখনোই দেশপ্রেমিক বা জনদরদি হতে পারে না।
সোমবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে খুলনার প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। দল-মত ও শ্রেণি-পেশার বিভেদ ভুলে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশ গড়তে হবে। একটি শ্রেণিকে বাদ দিয়ে কখনোই টেকসই রাষ্ট্র পুনর্গঠন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। এই বিশাল নারীসমাজকে পেছনে রেখে যত বড় পরিকল্পনাই করা হোক, দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্কুল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে তারা শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে।
নির্বাচন সামনে রেখে একটি রাজনৈতিক দলের নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ওই দল প্রকাশ্যে নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি তাদের এক নেতা কর্মজীবী মা-বোনদের উদ্দেশে এমন কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এটি শুধু নারীদের নয়, পুরো জাতির জন্যই কলঙ্ক।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হলো পোশাকশিল্পে কর্মরত লক্ষাধিক নারী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক নারী সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন। অথচ সেই নারীরাই আজ অবমাননার শিকার হচ্ছেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলে, তাদের মনে রাখা উচিত—নবী করিম (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। সুতরাং নারীদের কর্মজীবনকে অবজ্ঞা করার অধিকার কারও নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ওই রাজনৈতিক দল আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত দাঁড় করিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হ্যাকিংয়ের কোনো বাস্তব সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের সঙ্গে মিথ্যাচার করে তারা নিজেদের প্রকৃত চেহারা প্রকাশ করছে।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখের সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে আজ বিএনপি ও ধানের শীষের এই জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিগত ১৫–১৬ বছরে বিএনপি বহু আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছে। এই সময়ে দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন ও হত্যার শিকার হয়েছেন। হাজার হাজার, লাখো নেতাকর্মী বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা গায়েবি মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ টানা ১৬ বছর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, এমনকি স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণ তাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেনি। এই দীর্ঘ সময়ে মানুষ তাদের মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারেননি। কেউ কথা বলার চেষ্টা করলে তাকে রাতের আঁধারে তুলে নেওয়া হয়েছে, গুম করা হয়েছে কিংবা খুন করা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট মাসে দল-মত নির্বিশেষে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। আজ সময় এসেছে অধিকার আদায়ের। আগামী ১২ তারিখে ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের মানুষ সেই অধিকার প্রয়োগ করবে, যা থেকে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তাদের বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল।
বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে, যাতে তারা কারো মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকে।
খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক সময়ের শিল্পনগরী খুলনা আজ মৃতপ্রায়। বিএনপি সরকার গঠন করলে এই অঞ্চলকে আবার জীবন্ত শিল্পনগরীতে রূপান্তর করা হবে, নারী-পুরুষ উভয়ের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
তরুণ সমাজের জন্য আইটি পার্ক ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ঋণ, সার, বীজ ও কীটনাশক সহজে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বর্তমানে যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ রয়েছে, তা সুদসহ মওকুফ করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করা, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার সঠিক পরিবেশ ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর