যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিপুল তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদের ওপর দখল নিতে চায়। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে তা একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি জড়ো করছেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে আয়োজিত এক সমাবেশে খামেনি বলেন, “তাদের এটা জানা উচিত যদি তারা এবার যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে সেটি শুধু সীমিত থাকবে না, বরং আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হবে।”
১৯৭৯ সালে ফ্রান্স থেকে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ইরানে প্রত্যাবর্তনের বার্ষিকী উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই ইরানে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাসক মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। বর্তমানে ৮৬ বছর বয়সী খামেনি গত ৩৭ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে রয়েছেন।
সমাবেশে খামেনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভগুলো ছিল মূলত একটি অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ব্যাংক ও মসজিদে হামলা চালানো হয়।
তিনি এই সহিংস পরিস্থিতিকে ‘আরেকটি ফিতনা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই সাম্প্রতিক ফিতনাটি অভ্যুত্থানের মতো ছিল, তবে সেটি সফল হয়নি। আমরা তা দমন করতে পেরেছি।”
‘তাদের লক্ষ্য ছিল দেশ পরিচালনায় জড়িত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা। সে কারণেই তারা পুলিশ, সরকারি ভবন, স্থাপনা, ব্যাংক ও মসজিদে হামলা চালিয়েছে এবং কোরআনের কপি পুড়িয়েছে,’ যোগ করে খামেনি।
খামেনির বক্তব্যের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করছেন ইরান একটি চুক্তিতে রাজি হবে।
খামেনির সতর্কবার্তা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘অবশ্যই সে এমনটাই বলবে। আশা করি আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। যদি চুক্তি না হয়, তবে দেখা যাবে সে ঠিক ছিল কি না।’
সূত্রঃ আল জাজিরা।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর