ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমীর পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, জামায়াত আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল। কিন্তু শরিয়া বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার না থাকায় আমরা কোনো জোটে যাইনি। পরিবর্তনের জন্য ঝুঁকি নিয়ে আমরা প্রতিদ্বন্ধিতা করছি। তবে আমরা একা নই।
আমাদের সঙ্গে আল্লাহ আছে। দেশপ্রেমিক মানুষ আছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় গেলে দেশে দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব খাতে উন্নয়ন থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছর যারা দেশ শাসন করেছে, তাদের শাসন জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে। তাদের কাছে উন্নয়নের নতুন কোনো পথ নেই। নতুন করে উন্নয়নের ফুলঝুরি দেখিয়ে মানুষকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না। আরেকটা দল জামায়াতসহ ১১ জোট। আমীরসহ নেতারা বলছে প্রচলিত আইনে চলবে। তাই আবার এটা হলে শান্তি পাবো না। তাই মূল ব্যাপার হলো আদর্শ কি।
গতকাল সোমবার বিকেল চারটার দিলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ভালো নীতি, ভালো নেতা ও ভালো আদর্শ থাকলে আদর্শবান নেতৃত্ব খলিফা ওমর (রা.)-এর মতো শাসন কায়েম করতে পারে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার এই তিনটি বাস্তবায়নের প্রকৃত নামই হলো ইসলাম।
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যারা বিএনপি জোট বা জামায়াত জোট থেকে নির্বাচন করছে, তারা কেউ ইসলামকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিতে চায় না। একমাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই ইসলামকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়ন করতে চায়। অনেকে এখনো মাঠে নামেননি। মনে রাখতে হবে, প্রার্থী বড় কথা নয়, মার্কা বড়। যারা আমাদের নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে তাদের ভোটের মাধ্যমেই জবাব দিতে হবে। আর এজন্য নবীনগরবাসীকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে নজরুল ইসলাম নজুকে ভোট দিয়ে ইসলামী শরীয়া আইন বাস্তবায়নের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলনের নবীনগর উপজেলা সভাপতি জসিম উদ্দিন সরকার। এতে প্রধান আকর্ষণ ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম নজু। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা গাজী নিয়াজুল কারীম, আইম্ম পরিষদের সভাপতি মুফতি আবদুল্লাহ আল কাসেমী, জিয়াউল হক সরকার, হাবিবুর রহমান মিজবাহ, আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, মাওলানা মেহেদি হাসান প্রমুখ। চরমোনাই পীর এ সময় নজরুল ইসলামের হাতে দলীয় প্রতীক হাত পাখা তুলে দেন। এ সময় তিনি শান্তির প্রতীক হিসেবে হাত পাখায় ভোট দেওয়ার আহবান জানান।
জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও নবীনগর উপজেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর