বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নারীদের ভূমিকা অপরিসীম। যারা নারীদের অসম্মান করে, মিথ্যার আশ্রয় নেয়—তারা কখনো দেশপ্রেমিক বা জনদরদি হতে পারে না। বরং তারাই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টার দিকে যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের লক্ষাধিক নারী পোশাক শিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে আজ নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক নারী স্বামীর পাশাপাশি কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। অথচ একটি রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে এসব কর্মজীবী নারীকে অপমান করছে।
নির্বাচন সামনে রেখে ওই রাজনৈতিক দলের নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, একটি দল প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে তারা নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। সম্প্রতি ওই দলের এক নেতা কর্মজীবী মা-বোনদের উদ্দেশে এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা বলতেও লজ্জা লাগে। এটি শুধু নারীদের নয়, পুরো জাতির জন্যই কলঙ্ক।
তিনি আরও বলেন, যারা ইসলাম কায়েমের কথা বলে, তারা ভুলে যাচ্ছে—নবী করিম (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। সুতরাং নারীদের কর্মজীবনকে অবমাননা করার কোনো অধিকার কারও নেই।
ওই রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে তারা আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত দিচ্ছে। অথচ বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যা বলে তারা নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করছে। পাশাপাশি তারা বিকাশ নম্বর ও ভোটার আইডি নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে, যাতে তারা কারও ওপর নির্ভরশীল না থাকেন। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তরুণ সমাজের জন্য আইটি পার্ক ও আধুনিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে ঋণ, সার, বীজ ও কীটনাশক পাবেন। বর্তমানে যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ রয়েছে, তা সুদসহ মওকুফ করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি যশোরের ফুল চাষকে বৈদেশিক শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা এবং দক্ষিণাঞ্চলের বন্ধ চিনিকলগুলো চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন।
এছাড়া ইমাম, মোয়াজ্জিন এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বী সম্মানিত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করার ঘোষণাও দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
সমাবেশে তিনি যশোরসহ আশপাশের সাতটি জেলার ধানের শীষ প্রতীকের ২২ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা তাদের জন্য কাজ করুন, এরপর তারা আপনাদের জন্য কাজ করবে।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর