বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতির তীব্র সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড, আরেক হাতে মায়ের গায়ে হাত- রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড।”
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর স্কুল ও কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা আজ মায়ের গায়ে হাত তোলে, তারাই আবার ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে আসে। আমার মায়ের মর্যাদার কাছে ওই ফ্যামিলি কার্ডের কোনো মূল্য নেই। আগে মায়ের সম্মান, পরে সব কিছু। মায়ের গায়ে হাত দিলে আগুন জ্বলে উঠবে। মা-বোনদের আমরা মাথায় তুলে রাখব ইনশাআল্লাহ।”
তিনি বলেন, “যে যুবসমাজ লড়াই করেছিল, তাদের একটাই দাবি ছিল—উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আমরা সমাজের সব মানুষের জন্য ন্যায্যতা চাই। যারা সেই ন্যায্যতা দিতে অস্বীকার করেছিল, তাদের দেশ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। সেই মায়ের সন্তানদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করবেন না।”
জামায়াতে ইসলামীকে নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার মাধ্যমে আমাদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়েছিল। ক্ষমতায় এসে তারা কী করেছে, তা দেশবাসী জানে। এরপর সবচেয়ে নির্যাতিত দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। শহিদ পরিবার, বন্যাকবলিত মানুষসহ বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।”
অন্য একটি দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একটি দল চাঁদাবাজি শুরু করেছিল। আমি তাদের সিনিয়র নেতাদের ধরে বলেছিলাম—আমরা সবাই মজলুম ছিলাম, জালেম হবেন না। চাঁদাবাজি বন্ধ করুন। কিন্তু তারা শোনেনি। দখলদারিত্ব করতে গিয়ে নিজেদের ২৩৪ জন মানুষ নিজেরাই হত্যা করেছে। এরা ক্ষমতায় এলে দেশ কী পাবে?”
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বর্তমানে জামায়াত ও তাদের মা-বোনদের লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। “তারা মায়ের গায়ে হাত দেয়, কাপড় খুলে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরা কি মায়ের পেট থেকে জন্ম নেয়নি? যদি নেয়, তাহলে প্রথমে নিজেদের মাকে সম্মান করতে শিখুক।”
চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাক করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমার নামে জঘন্য কথা ছড়ানো হয়েছে। আল্লাহ সাক্ষী, এমন নোংরা কথা তো দূরের কথা, চিন্তাও করি না। কারা এর পেছনে আছে, আমরা তা বের করব ইনশাআল্লাহ।”
যুবসমাজকে উদ্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা বেকার ভাতা দিয়ে যুবসমাজকে অসম্মান করব না। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলব। বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের ককপিটে আমরা যুবসমাজকে ক্যাপ্টেন হিসেবে বসাতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশকে একটি ফুলের বাগান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বিশেষ করে মা-বোনদের ঘরে, চলাচলে ও কর্মস্থলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মায়ের মর্যাদা দিতে না পারলে জান দিতে প্রস্তুত থাকব।”
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১০ আসনের শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-১১ আসনের শফিউল ইসলাম, ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির লোহাগাড়া ও সীতাকুণ্ডে পৃথক জনসভায় বক্তব্য রাখেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর