ভারতের রাজস্থানে বিয়ের মাত্র তিন মাস পর স্বামীকে হত্যার অভিযোগে এক নববধূসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় সংবাদমাধ্যমে ‘রাজস্থান হানিমুন মার্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ২৩ বছর বয়সী অঞ্জলি সাত বছর আগে একটি অনুষ্ঠানে ওয়েটার হিসেবে কাজ করার সময় ২৫ বছর বয়সী সঞ্জয় নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হন। পরে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও ২০২৪ সালে মোবাইল ফোন কেনার পর তাদের মধ্যে আবার যোগাযোগ শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সিদ্ধান্তে ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর অঞ্জলির বিয়ে হয় এম কম পাস আশীষ কুমারের সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের পরও অঞ্জলি ও সঞ্জয়ের যোগাযোগ চলতে থাকে। হত্যার প্রায় ১৬ দিন আগে অঞ্জলি তার বাবার বাড়িতে গিয়ে প্রেমিক সঞ্জয়ের সঙ্গে স্বামীকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন।
ঘটনার দিন, ৩০ জানুয়ারি রাতে, অঞ্জলি স্বামীকে হাঁটতে বের হতে বলেন এবং ফোনে সঞ্জয়কে তার অবস্থান জানান। সঞ্জয় দুই সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে আগে থেকেই রাস্তায় ওত পেতে ছিলেন। তারা পৌঁছালে আশীষকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং পরে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করেন।
পরিকল্পনাটি ডাকাতি বা দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর জন্য অঞ্জলি নিজের কানের দুল ও স্বামীর ফোন হামলাকারীদের হাতে দেন এবং নিজে অচেতন হওয়ার ভান করে রাস্তায় শুয়ে পড়েন। পরে পথচারীরা পুলিশকে খবর দেন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আশীষকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্তে মাথায় গুরুতর আঘাত এবং শ্বাসরোধের প্রমাণ পাওয়ার পর তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। পুলিশ ইতিমধ্যে অঞ্জলি, তার প্রেমিক সঞ্জয় এবং দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর