আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুরের কালীগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজপথ। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কালীগঞ্জ আর আর এম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফজলুল হক মিলনের সমর্থনে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে।
জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ড. আসাদুজ্জামান রিপন। প্রধান অতিথি ড. আব্দুল মঈন খাঁনের অনুপস্থিতিতে তিনি তার বক্তব্যে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলের ভয়াবহ নির্যাতনের স্মৃতি চারণ করেন। ড. রিপন বলেন, "বিগত ১৬ বছর দেশের মানুষ এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় পার করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছিল। আয়নাঘর তৈরি করে বিরোধী মতের মানুষদের গুম করা হয়েছে এবং জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন কায়েম করা হয়েছিল। সেই দুঃশাসনের কলঙ্কিত ইতিহাস এদেশের মানুষ কোনোদিন ভুলবে না।" তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ধানের শীষের বিজয়কে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফজলুল হক মিলন তার বক্তব্যে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "আমি দীর্ঘ সময় আপনাদের সুখে-দুখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। বিগত সরকারের আমলে আমাকে ও আমার নেতা-কর্মীদের ওপর যে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা কেবল আপনারা দেখেছেন। মিথ্যা মামলা আর জেল-জুলুম দিয়ে আমাদের আন্দোলনকে দমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু আপনারা আমাদের পাশে ছিলেন।" তিনি আরও বলেন, "দেশ আজ নতুন করে স্বাধীন হয়েছে। এবার সময় এসেছে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়ার। আমি আপনাদের সন্তান হিসেবে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছি। আপনাদের একটি ভোটই পারবে দেশে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে।"
কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হুসেন আরমান মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির মাস্টার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজজ্জামান বাবলু।
বক্তারা সভায় অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে কালীগঞ্জসহ সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট ছিল নিত্যদিনের চিত্র। তাই আসন্ন নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে সেই অন্যায়ের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা। জনসভার শেষে ধানের শীষের পক্ষে একটি বিশাল মিছিল বের করা হয়, যা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে এক শক্তিশালী জনমত তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর