নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হুটহাট জারি করা চিঠি ও সার্কুলার জনমনে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের পরিবেশকে অস্থির করে তুলছে উল্লেখ করে দলটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইসিকে আরও দায়িত্বশীল, স্পষ্ট ও সমন্বিত ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ইসির নির্দেশনা দেখলাম ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ব্যবহার বা বহন করা যাবে না। এই ধরনের ঘোষণা সবাইকে উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আমরা ইসির সঙ্গে কথা বলেছি। উনারা বলেছেন, ইতোমধ্যে এটা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তবে, মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটা রেস্ট্রিকশন আছে। ভোটকেন্দ্রের ভিতরের মোবাইল ব্যবহারের একটা নির্দেশনা উনারা দেবেন। আমরা বলেছি, এই বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট হওয়া উচিত। কারণ ইসি বললেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা দেন। এই ধরনের ভিন্ন এক্সপ্লেনেশনের কারণে জটিলতা তৈরি হয়।
ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি রাখা প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতি ইলেকশনে বিএনসিসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা সহযোগী ফোর্স হিসেবে কাজ করেন। উনারা বলেছেন যে এই ব্যাপারে আরপিওতে কিছু বিধিবদ্ধ বিষয় আছে। তারপরেও চূড়ান্তভাবে উনারা না করেন নাই। এটাকে কিভাবে সমন্বয় করা যায় তারা বিষয়টি ভাববেন। আমরা বলেছি যে, এবারের নির্বাচন যেহেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে হচ্ছে। যেহেতু জনগণের ভোট দিতে সময় বেশি লাগবে এবং গত তিনটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারার কারণে মানুষের স্বাভাবিকভাবে আবেগ আগ্রহ এবং উৎসাহ বেশি থাকবে। এজন্য যত বেশি পারা যায় সাপোর্টিং এ সমস্ত ফোর্সগুলোকে দেওয়া উচিত। যাতে সুন্দর শান্তিপূর্ণ নির্বাচনটা নিশ্চিত হয়। এ ব্যাপারে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, খুলনার ডিআইজি, নাটোর ও শরীয়তপুরের এসপিসহ কয়েকজনের কথা তাদেরকে বলেছি। আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের পক্ষ থেকে যে ভূমিকা রাখা হচ্ছে, সেটা কোন অবস্থায় একটি সুষ্ঠ সুন্দর গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অনুকূল নয়। এদেরকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং প্রয়োজনে এদেরকে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় এ সমস্ত এলাকাগুলোসহ আরো কয়েকটি এলাকাতে নির্বাচন সুষ্ঠ হবে না। আমরা ইসিকে বলেছি এমন পরিস্থিতি উদ্ভব যাতে না হয়, আমাদেরকে বারবার আসতে হয়। এমন কোন চিঠি বা সার্কুলার ওনারা হুট করে যাতে না দেয়, যেটা নিয়ে আমাদের দেশবাসীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।
তিনি বলেন, রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ যারা আছেন, তারা যাতে একই ভাষায় কথা বলে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, নাটোয়ারে গতকাল রিটারনিং অফিসার চিঠি দিয়েছেন যে আমার এলাকায় কোন মিছিল চলবে না। এই জেলা কী বাংলাদেশের বাইরে? এইভাবে জনমনে একটা অস্বস্থির অবস্থা তৈরি করছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর