দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহার কমে যাওয়ার ফলে জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কা থেকে তরুণী ‘আমদানি’ করার বিতর্কিত প্রস্তাব দেওয়ার কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন এক সরকারি কর্মকর্তা।
গত সপ্তাহে জিন্দো কাউন্টির প্রধান কিম হি-সু একটি টাউন হল মিটিংয়ে বলেন, গ্রামীণ এলাকার অবিবাহিত তরুণদের জন্য এই দেশগুলো থেকে তরুণী আনা যেতে পারে। তার এই মন্তব্য পরবর্তীতে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হলে দেশজুড়ে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
কিমের এই কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাবের কারণে তাকে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি, কিন্তু জন্মহার এত কম যে আগামী ৬০ বছরের মধ্যে জনসংখ্যা অর্ধেক পর্যন্ত নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। কিম তার বক্তব্যে মূলত গ্রামীণ অঞ্চলের জনশূন্যতা দূর করার একটি সমাধান হিসেবে এই প্রস্তাব তুলে ধরেছিলেন।
তবে অধিকারকর্মীরা তার বক্তব্যকে ‘মানবাধিকারবিরোধী’ এবং ‘নারীদের পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ঘটনার পর ভিয়েতনাম দূতাবাস মন্তব্যটি তীব্রভাবে নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি কেবল সাধারণ বক্তব্য নয়, বরং অভিবাসী নারী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রতি অবমাননাপূর্ণ মনোভাব প্রকাশ। যদিও শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কিম হি-সু দ্রুত ক্ষমা প্রার্থনা করে জানান যে তার ব্যবহৃত শব্দগুলো ছিল ‘অনুপযুক্ত’ এবং তিনি কেবল গ্রামীণ সমস্যার গুরুত্ব বোঝাতে চেয়েছিলেন। দক্ষিণ জেওল্লা প্রদেশ কর্তৃপক্ষও এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে এতে জনরোষ প্রশমিত হয়নি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ডেমোক্রেটিক পার্টির সুপ্রিম কাউন্সিল সর্বসম্মতিক্রমে কিমকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে, নারী ও অভিবাসী অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত কর্মীরা এই মন্তব্যের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জিন্দো কাউন্টি অফিসের সামনে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর