ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। সে অনুযায়ী মন্ত্রিসভার একটি খসড়া তালিকাও তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়েও চলছে আলোচনা।
বিএনপি'র নীতি নির্ধারক পর্যায়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠন করার পরিকল্পনা করছে দলটি। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে অভিজ্ঞ নেতাদের দায়িত্ব দেয়ার আলোচনা চলছে। টেকনোক্রেট কোটায় কয়েকজনকে মন্ত্রী করা হবে। নির্বাচনে বিএনপি জোটে অন্য দল থেকে বিজয়ী হয়ে আসা অন্তত দুইজনকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া হবে। মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে দলীয় অঙ্গনে বিভিন্ন নাম আলোচনায় রয়েছে। কিশোরগঞ্জ থেকে ড. এম ওসমান ফারুক, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ও মো: শরীফুল আলমের নাম আলোচনায় আছে। এর মধ্যে ড. এম ওসমান ফারুক মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে তাকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে এমন আলোচনাও রয়েছে। বিএনপির আলোচিত নেতা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অথবা কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মো: শরীফুল আলমকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসন থেকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বিজয়ী হন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসন থেকে ৭৪ হাজার ৬৪৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শরীফুল আলম কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৫৮ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন।
দলের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিতর্কিত কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখতে চান না বিএনপি প্রধান তারেক রহমান। মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে তিনি প্রত্যেকের অতীত দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। আন্দোলনে যাদের ভূমিকা ছিল, সততা ও জনগণের সাথে যাদের সম্পৃক্ততা আছে তাদেরকে অগ্রাধিকার দেবেন তিনি। পরিচিত মুখগুলোর বাইরেও তিনি কাউকে কাউকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দিতে পারেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর