সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দেশটির সরকার মহিমান্বিত এ মাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরের দেশ সৌদির সঙ্গে মিল রেখে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত ভোর রাতে সাহরি খেয়ে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান মাসের রোজা রেখেছেন মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা। প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য অনুযায়ী দরবারের অনুসারী দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্তত ৬০ গ্রামবাসী এভাবে ঈদ, রোজা ও বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করে আসছেন।
মির্জারখীল দরবার শরীফের অনুসারী সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল, সোনাকানিয়া, ছোটহাতিয়া, আছারতলি, সাইরতলি, গারাঙ্গিয়া, এওচিয়া, খাগরিয়া, ছদাহা, গাটিয়াডাঙ্গা এবং লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, চরম্বা ও চুনতি, বাঁশখালী উপজেলার জালিয়াপাড়া, ছনুয়া, মক্ষিরচর, চাম্বল, শেখেরখীল, ডোংরা, তৈলারদ্বীপ ও কালিপুর পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও, বাহুলী, ভেল্লাপাড়াসহ ৫০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ আজ রোজা শুরু করবে।
এ ছাড়াও বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, আলীকদম, নাইক্ষংছড়ি, কক্সবাজার, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, হাতিয়া, নোয়াখালী, চাদঁপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও ভারত, মিয়ারমার, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্নস্থানে যেখানে মির্জাখীল দরবারের অনুসারী রয়েছেন তারাও মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সেহেরি খেয়ে প্রথম রোজা পালনের মধ্যে দিয়ে রোজা রাখবেন।
মির্জাখীল দরবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াইশ বছর আগে সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল গ্রামের হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগীরি (রহ.) হানাফি মাজহাবের আলোকে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে তা অনুসরণ করে রোজা ও ঈদ পালনের ফতোয়া প্রদান করেন। সেই ধারাবাহিকতায় দরবারের অনুসারীরা সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার ঘোষণাকে গুরুত্ব দিয়ে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন।
মির্জাখীল দরবার শরিফের দায়িত্বশীল মুহাম্মদ জালালুল হাই বলেন, আমরা হানাফি মাজহাবের অনুসারী। আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার খবর দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদের অবস্থান বিবেচনায় বুধবার থেকেই সিয়াম শুরু করব। সে অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার রাতেই সাহরি খেয়ে প্রথম রোজা পালন করব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, এটি আমাদের শতবর্ষী ধর্মীয় অনুশাসন। আমরা কারো বিরোধিতা করছি না।
প্রসঙ্গত, মির্জাখীল দরবারের অনুসারীদের আগাম রোজা পালন দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থ শতাধিক গ্রামের বহুদিনের বাস্তবতা। প্রতিবছর রমজান ও ঈদের সময় একই এলাকায় ভিন্ন দিনে উৎসব পালনের দৃশ্য দেখা যায়। একদিকে এটি একটি আধ্যাত্মিক সম্প্রদায়ের আড়াই শতবর্ষী অনুশাসন, অন্যদিকে জাতীয়ভাবে একইদিনে ধর্মীয় উৎসব পালনের প্রশ্ন এই দুই বাস্তবতার মাঝেই চলছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই ব্যতিক্রমী রমজান যাত্রা।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর