হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এক গৃহবধূ সৌদি আরবে গিয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী আকলিমা খাতুন (৩২) উপজেলার চৌমুনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তার পাসপোর্ট নম্বর A18462948।
জানা গেছে, আর্থিক সংকটের কারণে ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে গৃহকর্মীর ভিসায় তিনি সৌদি আরবে যান। সেখানে গিয়ে তিনি নির্যাতনের শিকার হন এবং বর্তমানে দেশে ফেরার জন্য আবেদন জানাচ্ছেন।
আকলিমা খাতুন ফোনে জানান, গত এক মাস ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। তাকে পর্যাপ্ত খাবার, চিকিৎসা বা ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “আমাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যে এজেন্সির মাধ্যমে তাকে পাঠানো হয়েছে, তারা তার কোনো খোঁজখবর রাখছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বনানীতে অবস্থিত ‘আবির ব্রাদার্স’ নামে একটি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং স্থানীয় হরিনখোলা গ্রামের জহির মিয়া নামে এক দালালের মাধ্যমে তাকে রিয়াদে পাঠানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওই দালাল তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দুই লাখ টাকা দাবি করে ব্ল্যাকমেল করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আকলিমা খাতুন প্রথমে রিয়াদের একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে এলে তিনি বর্তমানে সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি সেইফ হাউজে রয়েছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেখানেও গত এক সপ্তাহ ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। একটি অডিও বার্তায় তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে সরকারের কাছে দ্রুত উদ্ধারের আবেদন জানান।
ভুক্তভোগীর স্বামী মাসুক মিয়া বলেন, অভাবের তাড়নায় দালালের কথায় বিশ্বাস করে স্ত্রীকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। আমাদের তিনটি ছোট সন্তান রয়েছে। এখন সে চরম বিপদের মধ্যে রয়েছে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই, তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আমাদের সন্তানদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে জানতে ‘আবির ব্রাদার্স’-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দালাল জহির মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সে নিজে থেকেই দেশে ফিরতে চায়। এতে আমার কোনো দোষ নেই। যদি কোনো সমস্যা হয়ে থাকে, সেটি এজেন্সির দায়িত্ব। তার খোঁজখবর রাখার কথা এম্বাসির।”
এ প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ডের সহকারী পরিচালক মো. নবীর হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
এদিক। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আকলিমা খাতুনকে উদ্ধারের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর