প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করলেও দলের প্রবীণ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এখনো সরকারের কোনো দায়িত্ব পাননি। এর ফলে তাকে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা-১ ও কুমিল্লা-২ আসন থেকে মোট পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করছেন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে অনেকে তাকে আগাম শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন নিয়ে চলমান গুঞ্জন প্রসঙ্গে নিজেই মুখ খুলেছেন এই প্রবীণ নেতা। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না এবং এ নিয়ে আমি ভাবিও না। এর আগে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলেও আমাকে একই প্রশ্ন করা হয়েছিল। তখনও বলেছি, দল যেভাবে আমাকে দায়িত্ব দেবে, আমি সেভাবেই তা পালন করব।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের পার্টি আমাকে যেভাবে কাজে লাগাবে, যে দায়িত্ব দেবে, আমি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করব।”
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেলে অগ্রাধিকার কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মোশাররফ বলেন, দেশে অন্যায় ও দুর্নীতি রোধ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের যেকোনো দায়িত্বে থেকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দেশকে আরও স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।
বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচন পরিচালনা করে।
উল্লেখ্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন একাধিকবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি নিজ এলাকায় একজন সম্মানিত ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর